
খোকন বিকাশ ত্রিপরা জ্যাক, খাগড়াছড়ি।।
কুষ্ঠরোগে আক্রান্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের অধিকার, সামাজিক মর্যাদা, প্রয়োজনীয় সহায়তা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে খাগড়াছড়িতে সেবাদানকারীদের নিয়ে ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় খাগড়াছড়ি জেলা সম্মেলন কক্ষের একটি কক্ষে এ ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত হয়। দ্য লেপ্রসি মিশন ইন্টারন্যাশনাল-বাংলাদেশের আয়োজনে এবং দ্য লেপ্রসি মিশন ডেনমার্ক ও সেন্টার ফর চার্চ বেইজড ডেভেলপমেন্ট (ঈকট)-এর সহযোগিতায় সিএইচটি লেপ্রসি কন্ট্রোল অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন প্রজেক্টের অর্থায়নে কর্মসূচিটি অনুষ্ঠিত হয়।
সিএইচটি লেপ্রসি কন্ট্রোল অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন প্রজেক্টের প্রকল্প ব্যবস্থাপক পরশ চাকমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ম্রাসাথোয়াই মারমা। কর্মসূচির সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন প্রকল্প ও দ্য লেপ্রসি মিশন ইন্টারন্যাশনাল-বাংলাদেশের জেলা সমন্বয়কারী বীর মোহন ত্রিপুরা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ম্রাসাথোয়াই মারমা বলেন, কুষ্ঠরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদেরও সমাজের অন্য সবার মতো সম্মান, অধিকার ও প্রয়োজনীয় সেবা পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। রোগের কারণে কেউ যাতে সামাজিক অবহেলা, বৈষম্য বা বঞ্চনার শিকার না হন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, কুষ্ঠরোগ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি আক্রান্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে সরকারি প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও উন্নয়ন সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
কুষ্ঠরোগীদের অধিকার ও প্রয়োজন পূরণে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কার্যক্রমে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইলিয়াস মেহেদী, জেলা পরিষদ সদস্য এম এন আবছার, ক্ষেত্র মোহন রোয়াজা, মো. মোশাররফ হোসেন, আব্দুল মালেক মিন্টু, খনিরঞ্জন ত্রিপুরা, কুহেলী দেওয়ান, তাজলিমা সিরাজ সিমা ও রুমেল মারমাসহ জেলা পরিষদের অন্যান্য সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট সেবাদানকারীরা উপস্থিত ছিলেন।
ওরিয়েন্টেশনে কুষ্ঠরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মৌলিক অধিকার, স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের সুযোগ, সামাজিক মর্যাদা, প্রয়োজনীয় সহায়তা ও পুনর্বাসন এবং সেবাদানকারীদের দায়িত্ব ও করণীয় বিষয়ে আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে কুষ্ঠরোগ সম্পর্কে প্রচলিত ভুল ধারণা, ভয় ও সামাজিক বৈষম্য কমিয়ে আক্রান্ত ব্যক্তিদের স্বাভাবিক জীবনযাপনে সহযোগিতা করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
আয়োজকরা বলেন, কুষ্ঠরোগের চিকিৎসার পাশাপাশি আক্রান্ত ব্যক্তিদের সামাজিক মর্যাদা ও মানবিক অধিকার নিশ্চিত করাও জরুরি। সেবাদানকারীদের মধ্যে রোগটি সম্পর্কে সঠিক ধারণা ও সংবেদনশীলতা তৈরি হলে আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের সুযোগ বাড়বে এবং সামাজিক বৈষম্য কমাতে সহায়ক হবে।