
দহেন বিকাশ ত্রিপুরা, স্টাফ রিপোর্টার।।
পরিবেশ সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় খাগড়াছড়িতে বন বিভাগের উদ্যোগে সপ্তাহব্যাপী ‘বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬’ শুরু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে খাগড়াছড়ি টাউন হল প্রাঙ্গণে খাগড়াছড়ি-২৯৮ আসনের সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া ফিতা কেটে ও রঙিন বেলুন উড়িয়ে বৃক্ষমেলার উদ্বোধন করেন। এ সময় খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরাসহ সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্য এবং বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধনের পর একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে টাউন হল প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। পরে অতিথিরা মেলায় অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন এবং প্রদর্শিত বনজ, ফলজ ও ঔষধি গাছের চারা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
এরপর টাউন হল মিলনায়তনে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) হাসান মারুফের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন খাগড়াছড়ি বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. ফরিদ মিঞা। তিনি বলেন, বনজ সম্পদ সংরক্ষণ, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।

আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন খাগড়াছড়ি সদর জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আমিনুর রহমান, পিএসসি এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. কামরুল ইসলাম। এছাড়া বক্তব্য দেন খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ পুলক বরণ চাকমা এবং খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক সমীর মল্লিক।
বক্তারা বলেন, শুধু গাছ লাগালেই হবে না, রোপণ করা চারার সঠিক পরিচর্যা ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। বনভূমি রক্ষা, পাহাড়ধস ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পরিবেশ গড়ে তুলতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার বিকল্প নেই। তারা সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ মানুষকে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে আরও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, পরিবেশকর্মী, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভা শেষে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের মাঝে বিভিন্ন প্রজাতির বনজ, ফলজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করা হয়। পরে বৃক্ষরোপণ, চারা সংরক্ষণ এবং পরিবেশ রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় একটি সচেতনতামূলক নাটক মঞ্চস্থ করা হয়, যা উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে।
আগামী ২৯ জুলাই পর্যন্ত চলবে এ বৃক্ষমেলা। মেলায় বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা প্রদর্শন, বিক্রয় ও বিতরণের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণ বিষয়ে জনসচেতনতামূলক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হবে।