
মোঃ আব্দুজ জাহের, বাঘাইছড়ি প্রতিনিধি।।
রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার বাঘাইছড়ি ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব লাইল্যাঘোনা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সড়ক ও অন্যান্য মৌলিক অবকাঠামোর উন্নয়ন না হওয়ায় কয়েক হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে রয়েছেন। এলাকার প্রায় দুই হাজার বাসিন্দার দৈনন্দিন চলাচলের একমাত্র ভরসা কাদা-মাটির কাঁচা সড়ক, যা বর্ষা মৌসুমে আরও চলাচল-অযোগ্য হয়ে পড়ে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে সড়ক সংস্কার ও উন্নয়নের দাবি জানানো হলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো কাজ শুরু হয়নি। ফলে শিক্ষার্থী, রোগী, বৃদ্ধ ও গর্ভবতী নারীদের চলাচলে প্রতিনিয়ত ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
এলাকাবাসীর তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বন্যার পানি কিছুটা কমলেও এখনও প্রায় ৫০টি পরিবার পানিবন্দি রয়েছে। প্রায় ৪০০ পরিবারের বসবাসের এই এলাকায় বন্যা বা অন্য কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় আশ্রয় নেওয়ার জন্য নেই কোনো স্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র।

৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আব্দুল খালেক বলেন, *”গত ১৫ বছরে আমাদের এলাকায় উন্নয়নের কোনো ছোঁয়া লাগেনি। কাদা-মাটির রাস্তা দিয়েই চলাফেরা করতে হয়। বর্ষা এলেই দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে যায়।”*
স্থানীয়রা জানান, রাঙ্গামাটি-২ আসনের সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান, পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান এলাকা পরিদর্শন করেছেন। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস ও নির্দেশনা দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কোনো উন্নয়নকাজের দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রতি বছর প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয়ের (পিআইও) মাধ্যমে কাবিখা ও টিআর প্রকল্পে সরকারি বরাদ্দ এলেও পূর্ব লাইল্যাঘোনা এলাকায় তার কার্যকর বাস্তবায়ন দেখা যায়নি।
তাদের দাবি, দ্রুত কাঁচা সড়ক পাকা করা, জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় একটি স্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হোক। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপও কামনা করেছেন এলাকাবাসী।