
নানিয়ারচর জোনের উদ্যোগে সম্প্রীতি ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নানিয়ারচর জোনের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত বগাছড়ি আল-আমিন উচ্চ বিদ্যালয়ের কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা, পুরস্কার বিতরণ, প্রীতিভোজ ও নৌকা ভ্রমণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৭ জানুয়ারি ২০২৬) দিনব্যাপী এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের মোট ৪০ জন কৃতী ছাত্র-ছাত্রীসহ শিক্ষক-শিক্ষিকাগণ অংশগ্রহণ করেন। কর্মসূচির শুরুতে নানিয়ারচর জোনের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভূমিকা, দায়িত্ব ও কার্যক্রম সম্পর্কে একটি তথ্যবহুল প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করা হয়। এতে সেনাবাহিনীর দেশরক্ষা, শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং পার্বত্য অঞ্চলে সম্প্রীতি ও উন্নয়ন কার্যক্রমে অবদানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।
প্রেজেন্টেশন শেষে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে একটি প্রীতিকর নৌকা ভ্রমণের আয়োজন করা হয়। পাহাড় ও কাপ্তাই লেকঘেরা প্রাকৃতিক পরিবেশে নৌকা ভ্রমণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা আনন্দঘন সময় কাটায় এবং প্রকৃতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পায়।
অনুষ্ঠানটি নানিয়ারচর জোন কমান্ডার বিএ-৭৯০০ লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ মশিউর রহমান, পিএসসি-এর উপস্থিতিতে পরিচালিত হয়। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন। বক্তব্যে তিনি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার পাশাপাশি নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামীর বাংলাদেশ গড়ার কারিগর। সৎ, দক্ষ ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে।”
অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে বিদ্যালয়ের কৃতী ছাত্র-ছাত্রীদের আনুষ্ঠানিকভাবে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। তাদের শিক্ষাগত সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা ও অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করে। শিক্ষক-শিক্ষিকাগণ এ ধরনের উদ্যোগের জন্য নানিয়ারচর জোনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
সংবর্ধনা ও পুরস্কার বিতরণ শেষে সকল অংশগ্রহণকারীদের জন্য মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হয়। সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের মধ্যে আন্তরিক মতবিনিময়ের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, এ ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সঙ্গে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক ও পারস্পরিক আস্থা আরও সুদৃঢ় হচ্ছে। ভবিষ্যতেও সম্প্রীতি ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নানিয়ারচর জোনে শিক্ষাবান্ধব ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়।