রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ০৩:১১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
সেনাবাহিনীর উদ্যোগে দুর্গম এলাকায় বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা এবং ঔষধ বিতরণ বান্দরবান এলজিইডির বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন বাঘাইছড়িতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন লামায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন “সবুজে গড়বো আগামীর বাংলাদেশ” খাগড়াছড়িতে শুরু হলো বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি থানচিতে উদ্যোক্তা মেলা ও পিঠা উৎসব প্রধানমন্ত্রীর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি; পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন খাগড়াছড়ি সদর এলজিইডি’র আয়োজনে বৃক্ষরোপন কর্মসূচি পালন সীমান্তে অপরাধ ও সন্ত্রাস দমনে পানছড়ি কেষ্টমনি পাড়ায় বিজিবি’র নতুন ক্যাম্প স্থাপন প্রধানমন্ত্রীকে দেখার জন্য ঈদগাঁওবাসী ছিলেন অধির অপেক্ষায় বান্দরবানের ক্রীড়াঙ্গনে নারী ক্রীড়াবিদদের মর্যাদা, নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিতকরণে এক কর্মশালা রাজস্থলীতে ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন নওমুসলিমদের নির্যাতনের অভিযোগে রাজস্থলীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ পানছড়িতে ‘৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির’ উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে বাঘাইছড়িতে ২৫ হাজার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন এডুকেশনাল এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কীম (EESS) এর আওতায় , সৌকেসিং প্রোগ্রাম

পাহাড়ি ঢলে দীঘিনালার মধ্য বোয়ালখালীতে কালভার্ট ধস, দুর্ভোগে ২০০ পরিবার

Reporter Name

মোঃ হাচান আল মামুন, দীঘিনালা প্রতিনিধি।
খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার ১নং মেরুং ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের মধ্য বোয়ালখালী এলাকায় প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের পানির তোড়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ কালভার্ট ভেঙে পড়েছে। এতে প্রায় ২০০ পরিবারের স্বাভাবিক চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। দীর্ঘদিনের একমাত্র যোগাযোগ মাধ্যমটি ধসে পড়ায় এলাকাবাসী চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভেঙে যাওয়া কালভার্টটি মধ্য বোয়ালখালী গ্রামের মানুষের প্রধান যাতায়াত পথ। পাশাপাশি স্থানীয় কবরস্থানে যাওয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়ক হিসেবেও এটি ব্যবহৃত হতো। কালভার্টটি ধসে পড়ার পর শিক্ষার্থী, কৃষক, নারী ও বয়স্ক ব্যক্তিদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. হোসেন আলী বলেন, “এই কালভার্ট দিয়ে প্রতিদিন শত শত মানুষ চলাচল করতেন। বৃষ্টির পানিতে এটি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে আমাদের অনেক কষ্টে যাতায়াত করতে হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ ও নারীরা সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন। দ্রুত একটি নতুন কালভার্ট নির্মাণ করা প্রয়োজন।”

আরেক বাসিন্দা আবদুল রহিম বলেন, “এটি শুধু একটি রাস্তা নয়, গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে জড়িত গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম। কবরস্থানে যেতে, রোগী নিয়ে হাসপাতালে যেতে এবং দৈনন্দিন কাজে বের হতে এখন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”

এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত এই কালভার্টটি গুরুত্বপূর্ণ হলেও যথাযথ সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এটি দুর্বল হয়ে পড়ে। সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের প্রবল স্রোতে শেষ পর্যন্ত কালভার্টটি সম্পূর্ণ ভেঙে যায়। ফলে পুরো এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, কালভার্ট ধসে পড়ায় শুধু সাধারণ যাতায়াতই নয়, জরুরি সেবাও ব্যাহত হচ্ছে। কোনো মৃত্যু ঘটলে জানাজা ও দাফনের জন্য কবরস্থানে পৌঁছানো, অসুস্থ রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। বর্ষা মৌসুম অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

এ বিষয়ে তানজিল পারভেজ বলেন, “মধ্য বোয়ালখালী এলাকার কালভার্ট ভেঙে পড়ার বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। দ্রুত সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনগণের চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”

এদিকে, ভেঙে পড়া কালভার্টটি দ্রুত পুনর্নির্মাণের দাবিতে এলাকাবাসী উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে চলমান বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ আরও বাড়বে এবং শত শত মানুষ কার্যত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *