রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ১২:২৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
বন্যায় বসতঘর হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বাঘাইছড়ির শওকত আলী পাহাড়ি ঢলে ফের প্লাবিত বিলাইছড়ির ফারুয়ার ২০ গ্রাম, তীব্র স্রোতে ব্যাহত ত্রাণ পৌঁছানো পাহাড়ি ঢলে রাজস্থলীর নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, নদী তীরের বসতবাড়ি ভাঙনের ঝুঁকিতে হাইকোর্টের রায়ের পর ঈদগাঁওয়ে পদোন্নতির অপেক্ষায় ২৫ ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিলাইছড়ির দুর্গম ফারুয়ায় বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শনে উপজেলা বিএনপির প্রতিনিধি দল রাজস্থলীতে আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া পরিবারের খাবার বিতরণ করেছেন ইউএনও আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রিত পরিবারের মাঝে ছাত্রদলের খাবার বিতরণ বন্যা দুর্গতদের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ করছে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র ১৫ জুলাই পর্যন্ত বন্ধ বন্যাকবলিত কুহালংয়ের দুর্গম এলাকায় ৫৩ পরিবারের মাঝে সেনাবাহিনীর ত্রাণ বিতরণ টানা বর্ষণ ও লুসাই পাহাড়ি ঢলে বরকল প্লাবিত, পানিবন্দী ১০ হাজার মানুষ মহালছড়িতে বিভিন্ন গ্রামীন সড়ক ভেঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিঘ্নিত; জরুরী ব্যবস্থা গ্রহণের আকুতী স্থানীয় বাসিন্দারদের লামা-আলীকদম দুই উপজেলায় বিদ্যুৎ-নেটওয়ার্ক বিপর্যয়ে চরম দুর্ভোগে ঈদগাঁও-জালালাবাদের ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে মানবিক সহায়তা বিতরণ বরকলে ভারতে পাচারের সময় ২.১ টন ইউরিয়া সার জব্দ বন্যাকবলিত বাঘাইছড়িতে বিএনপি নেতাদের পরিদর্শন, দুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ

পাহাড়ি ঢলে ফের প্লাবিত বিলাইছড়ির ফারুয়ার ২০ গ্রাম, তীব্র স্রোতে ব্যাহত ত্রাণ পৌঁছানো

Reporter Name

​সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা, বিলাইছড়ি প্রতিনিধি।।
টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে রাঙ্গামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া ইউনিয়নের প্রায় ২০টি গ্রাম আবারও প্লাবিত হয়েছে। তীব্র স্রোতের কারণে দুর্গত এলাকায় এখনো ত্রাণ পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত আট দিন ধরে চলমান বৃষ্টিপাতের মধ্যে ৭ জুলাই প্রথম দফায় ফারুয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়। এরপর পানি পুরোপুরি না নামতেই শুক্রবার রাতভর মুষলধারে বৃষ্টিতে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে। পানিতে তলিয়ে যায় ফারুয়া বাজারসহ ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই রাত জেগে প্রয়োজনীয় মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন।

ফারুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিদ্যালাল তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, পানি কমার আগেই নতুন করে ভারী বৃষ্টিতে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

ফারুয়া বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি হারুন জানান, আগের দফার বন্যায় শতাধিক দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সর্বশেষ বৃষ্টিতে পুরো বাজার পানিতে তলিয়ে গেছে। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে বাজারটি প্লাবিত হওয়ায় ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। তিনি দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য বাজারটি নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরের দাবি জানান।

ফারুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অরুণ তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, পাহাড়ি ঢলের পানিতে বিদ্যালয়ের নিচতলা ডুবে থাকায় পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

এদিকে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খুশি বাবু তঞ্চঙ্গ্যা দাবি করেন, বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে থেকে দলীয় নেতাকর্মীরা সহযোগিতা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

প্লাবিত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে তক্তানালা, ওড়াছড়ি, যমুনাছড়ি, যামুছড়া, শুক্করছড়ি, চাইন্দা, আলেচং, রোয়াপাড়াছড়া, এগুজ্যাছড়ি, ঝাংবিল, ফারুয়া বাজার, উলুছড়ি, তাড়াছড়ি, চাইন্দাপাড়া, গোয়াইনছড়িপাড়া, আকাটাছড়া, ফঁছড়া, চংড়াছড়িসহ আরও কয়েকটি গ্রাম।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন বলেন, তীব্র স্রোতের কারণে দুর্গত এলাকায় ত্রাণ পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। স্রোত কমলে দ্রুত ত্রাণ বিতরণ করা হবে। তিনি জানান, রাজস্থলী-বিলাইছড়ি সীমান্ত সড়কের উদয়চর এলাকায় সড়ক ধসে পড়ায় ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদকে আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নেওয়া দুর্গত মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে সরকারি সহায়তার পাশাপাশি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা, দাতা সংস্থা এবং সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *