
রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ধুপ্যাচর ত্রিরত্ন বৌদ্ধ বিহারে নানা ধর্মীয় আচার ও বর্ণিল আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিহারের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে সুবর্ণ জয়ন্তী এবং বিহার অধ্যক্ষ ভদন্ত শাক্য প্রিয় ভিক্ষুর স্থবির বরনোৎসব উদযাপন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বিহার পরিচালনা কমিটির উদ্যোগে বিহার মাঠ প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় পতাকা ও বৌদ্ধ পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। পরে পঞ্চশীল গ্রহণ, বুদ্ধপূজা, বুদ্ধমূর্তি দান, সংঘদান, অষ্টপরিস্কার, পিণ্ডদানসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও পূণ্যকর্ম অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় ধর্মপ্রাণ দায়ক-দায়িকারা ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে এসব দান ও পূজা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে আশির্বাদক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি মৈত্রী বিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত পূণ্যজ্যোতি মহাথের। আর্যলঙ্কার মহাথেরোর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ধর্মসভায় একক ধর্মদেশক হিসেবে ধর্মদেশনা প্রদান করেন পাঞ্ঞাদীপা মহাথের। প্রধান ধর্মদেশক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য ভিক্ষু সংঘ বাংলাদেশ, বিলাইছড়ি উপজেলা শাখার সম্পাদক ভদন্ত বিপুল জ্যোতি থের। বিশেষ ধর্মদেশক হিসেবে ধর্মবাণী প্রদান করেন ভদন্ত শীলা নন্দ থের।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি দেওয়ান। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “ধুপ্যাচর ত্রিরতœ বৌদ্ধ বিহার শুধু একটি ধর্মীয় উপাসনালয় নয়, এটি পার্বত্য অঞ্চলের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, নৈতিক শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধ চর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এই বিহারের সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে এমন আয়োজন এলাকাবাসীর জন্য গৌরবের বিষয়।”
বিশেষ অতিথি ও বক্তারা বলেন, ভদন্ত শাক্য প্রিয় ভিক্ষুর দীর্ঘ সাধনা, ধর্মচর্চা ও মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড এই অঞ্চলে বৌদ্ধ ধর্মের প্রসার ও শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। স্থবির বরনোৎসবের মাধ্যমে তাঁর ধর্মীয় অবদানকে সম্মান জানানো হয়েছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিহার পরিচালনা কমিটির সভাপতি সুমন্ত চাকমা, সাধারণ সম্পাদক রুপম চাকমা, কার্বারী থুইপ্রু মার্মা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রথাগত নেতা, ভিক্ষু সংঘের সদস্যবৃন্দ এবং বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত শত শত দায়ক-দায়িকাবৃন্দ। উদ্বোধনী পর্বে সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী রুবেল চাকমা, যা অনুষ্ঠানের পরিবেশকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
দিনব্যাপী কর্মসূচির শেষ পর্যায়ে সন্ধ্যায় প্রদীপ প্রজ্বালনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের পরিসমাপ্তি ঘটে। প্রদীপের আলোয় আলোকিত বিহার প্রাঙ্গণ যেন শান্তি, মৈত্রী ও সম্প্রীতির প্রতীক হয়ে ওঠে। স্থানীয়দের মতে, ধুপ্যাচর ত্রিরতœ বৌদ্ধ বিহারের সুবর্ণ জয়ন্তী ও স্থবির বরনোৎসব শুধু একটি ধর্মীয় আয়োজন নয়, বরং এটি পাহাড়ি জনপদের সামাজিক ঐক্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক উজ্জ্বল নিদর্শন।