
দেবদত্ত মুৎসুদ্দী, রাঙামাটি প্রতিনিধি।।
টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় রাঙামাটির কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় হাজার হাজার একর কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গবাদিপশু ও পোলট্রি খামার। প্রাথমিক হিসাবে কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫০ কোটি ৯৮ লাখ ৬৬ হাজার টাকা। তবে বন্যার পানি পুরোপুরি নেমে গেলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে জেলার ১০ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষিজমি প্লাবিত হয়েছে। এতে আউশ ধান, রোপা আমনের বীজতলা, শাক-সবজি, আদা, হলুদ, মরিচসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
বন্যায় কৃষিনির্ভর প্রায় ৮ হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার কৃষক সরাসরি ক্ষতির মুখে পড়েছেন। জেলার মোট ৩ হাজার ৬৭৫ হেক্টর কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।
রাঙামাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মনিরুজ্জামান জানান, জেলার সবকটি উপজেলায় কমবেশি কৃষি ক্ষতি হলেও সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাঘাইছড়ি ও বিলাইছড়ি উপজেলা। কৃষি খাতে প্রাথমিকভাবে প্রায় ৫০ কোটি টাকা ক্ষয়ক্ষতির হিসাব করা হয়েছে।
এদিকে বন্যায় প্রাণিসম্পদ খাতেও বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। জেলার রাজস্থলী উপজেলায় পানিতে ডুবে দুই খামারির ৯টি গরু মারা গেছে। এছাড়া প্রায় ১৫০টি পোলট্রি খামার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি ৪২১ হেক্টর চারণভূমি নষ্ট হওয়ায় গবাদিপশুর খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে।
রাঙামাটি জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আবু সাদাত মো. সায়েম জানান, প্রাণিসম্পদ খাতে প্রাথমিকভাবে প্রায় ৯৮ লাখ ৬৬ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করা হয়েছে। এতে তিন শতাধিক খামারি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, পানি নেমে যাওয়ার পর মাঠ পর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যাবে। তখন ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।