শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১১:৩৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
জাতিসত্তার সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও পার্বত্য চট্টগ্রামের বিশেষ মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবি ইউপিডিএফের বাঘাইছড়ি সীমান্তে পিস্তল, গুলি ও ভারতীয় সিগারেট জব্দ রামুতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, শিক্ষার্থীদের মাঝে চারা বিতরণ করলেন এমপি কাজল কর্ণফুলীর বুকে দেশের প্রথম চার লেনের ক্যাবল স্টেইড সেতু, চার দশকের ভোগান্তির অবসান; বরাদ্দ ১হাজার ৬৮৯ কোটি টাকা বন্যাদুর্গতদের পাশে আশা: ঈদগড়-বাইশারীতে ২৩ লাখ ৪৭ হাজার টাকার প্রণোদনা বিতরণ শুরু কাপ্তাইয়ের রাইখালীতে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের অভিযানে মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্য জব্দ, জনসম্মুখে ধ্বংস গুইমারার দুর্গম সিন্দুকছড়িতে সেনাবাহিনীর মেডিকেল ক্যাম্প, ৪১০ জনকে বিনামূল্যে চিকিৎসা গুইমারার চার হিল ভিডিপি সদস্য পেলেন আনসার মহাপরিচালকের সম্মাননা বাঘাইছড়িতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবিতে বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও মাটিরাঙ্গায় কৃষি প্রণোদনার উপকরণ পেলেন ৯০০ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক লংগদুতে সেনাবাহিনীর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, শিক্ষার্থীদের মাঝে সাড়ে ৩ হাজার চারা বিতরণ অপহরণের একদিন পর গহীন জঙ্গল থেকে মোটরসাইকেল চালক উদ্ধার, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নাইক্ষ্যংছড়িতে সম্প্রীতি অলিম্পিক ফুটবলের শিরোপা নুরু কিং ফুটবল একাদশের বান্দরবান সদর হাসপাতালে হাম রোগী; পরিদর্শনে সেনা জোন কমান্ডার, বিশেষ চিকিৎসা সহায়তার আশ্বাস খাগড়াছড়ির চার উপজেলায় এলএসটিডি প্রকল্পের উদ্যোগে আমন মৌসুমের কৃষি উপকরণ বিতরণ বার্জার পেইন্টসের ‘লাল পেইন্টার পাসপোর্ট’ পেলেন রাঙ্গুনিয়ার সাকিব

রাত পোহালেই ঈদগাঁও জুয়েলারি এসোসিয়েশনের নির্বাচন

Reporter Name

ঈদগাঁও প্রতিনিধি

বাংলাদেশ জুয়েলারি অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) ঈদগাঁও উপজেলা শাখার বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচন ১৭ মে রবিবার। নির্বাচনকে ঘিরে কঠিন অগ্নিপরীক্ষায় অবতীর্ণ হয়েছেন সমিতির ভোটাররা। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা এবং সৌহার্দ্য বজায় রাখবেন কিনা প্রশ্নে তাদের এ অগ্নিপরীক্ষা। দ্বি- বার্ষিক কার্যকরী পরিষদের এ নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫৯ জন। শাহ ফকির বাজারের রয়েছেন চারজন ভোটার।

নির্বাচনে সভাপতি পদে তিনজন প্রার্থী রয়েছেন। তাঁরা হলেন আরিফুর রহিম (হাতি মার্কা), ভবেশ আচার্য্য (সিংহ মার্কা) এবং সিরাজুল হক (গরুর গাড়ি মার্কা)।

সাধারণ সম্পাদক পদে লড়ছেন দুইজন। তাঁরা হলেন বিজন ধর (ঈগল পাখি মার্কা) এবং সুকুমার মল্লিক (ময়ূর মার্কা)।

সহ-সভাপতি পদের প্রার্থীও হচ্ছেন দুইজন। উজ্জ্বল ধর (কাঁঠাল মার্কা) এবং কাঞ্চন ধর (আম মার্কা)।

সাংগঠনিক সম্পাদক পদে রজনী গন্ধা প্রতীকে নির্বাচন করছেন তাপস দে এবং পদ্মফুল প্রতীকে নির্বাচন করছেন রুবেল ধর।

সদস্য পদের প্রার্থীরা হচ্ছেন বিপুল ধর (টিউবওয়েল), টিংকু দত্ত (চিংড়ি মাছ), সুমল ধর (কাতাল মাছ),  সৈকত ধর (সিলিং ফ্যান) এবং অজয় ধর (ফুটবল)। তাদের মধ্যে চারজন নির্বাচিত হবেন।

কোষাধ্যক্ষ পদে উজ্জ্বল ধর এবং প্রচার ও দপ্তর সম্পাদক পদে অয়ন ধর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান হচ্ছেন বাবু মৃণাল আচার্য্য। নির্বাচন কমিশনাররা হলেন হাজী সেলিম, খোকন ধর, পরিমল দে এবং সুলাল ধর।

নির্বাচন কর্মকর্তা হিসেবে ভোট গ্রহণের দায়িত্ব পালন করবেন শিক্ষক রাজন আচার্য্য ও শিক্ষক লিটন আচার্য্য।

সকাল ১০ টা থেকে বিকেল তিনটা পর্যন্ত ঈদগাঁও বাজারস্থ সমিতির নিজস্ব কার্যালয় (চতুর্থ তলায়) ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হবে। একটি কেন্দ্রের দুইটি বুথে ভোট গ্রহণের আয়োজন সম্পন্ন করেছে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি।

নির্বাচনে ৫৫ জন হচ্ছেন হিন্দু ভোটার। মাত্র ৪ জন হচ্ছেন মুসলিম ভোটার। হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটাররাই দু’জন মুসলিম প্রার্থীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ করেছেন।

১৬ মে রাত বারোটা থেকে নির্বাচনের সকল ধরনের প্রচারণা শেষ হয়েছে। তবে পোস্টার, ব্যানার, ও লিফলেটে সয়লাব হয়ে উঠেছে বাজারের স্বর্ণপট্টি এলাকা। অর্ধশতাধিক দোকান মালিকই সমিতির ভোটার। তবে এক দোকানে একজন মাত্র ভোটার হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।

সমিতির জেলা শাখার নির্দেশনা ও পরামর্শ মতে স্বাধীনতার পর এ প্রথমবারের মতো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলে জানান বর্ধিত সভার প্রধান অতিথি মঞ্জুরুল হক চৌধুরী।

এডভোকেট অশোক আচার্য্যের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ সভায় সমিতির প্রায় ৪০ জন সদস্য ভোটার উপস্থিত ছিলেন। নির্বাচনের আচরণবিধি প্রতিপালন এবং নির্বাচন অনুষ্ঠানের সম্ভাব্য করণীয় নিয়ে সভাটির  আয়োজন করা হয়েছিল বলে জানান হাজী সেলিম।

সভাপতি প্রার্থী ভবেশ আচার্য্য জানান, ভোটাররা ব্যালটের মাধ্যমে উপযুক্ত প্রতিনিধি নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পরিস্থিতি যথেষ্ট সন্তোষজনক। তিনি সকলের আশীর্বাদ কামনা করে বলেন, নির্বাচিত হলে গঠনতন্ত্রের নীতিমালা মতে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। তিনি তার বিজয় সমিতির সদস্যদের জন্য উৎসর্গ করবেন। জয়ের ব্যাপারে তিনি শতভাগ আশাবাদী জানিয়ে বলেন, নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক বিনা দ্বিধায় তিনি তা মেনে নেবেন। প্রচারণা কালে তিনি ভোটারদের যথেষ্ট দোয়া, আশীর্বাদ ও সাড়া পেয়েছেন বলে জানান। এর আগে তিনি বাজারের কেন্দ্রীয় কালীবাড়ি উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি ছিলেন। অপর সভাপতি প্রার্থী আরিফুর রহিমও জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। তিনি বলেন, ভোটাররা তার অতীত কাজের মূল্যায়ন করবেন। তিনি দাবি করেন, সনাতন ধর্মের লোকজন পরিবর্তন চাচ্ছেন। নির্বাচিত হলে তিনি সমিতির তহবিল গঠন, জরাজীর্ণ অফিসের সংস্কার, বিচারে বিভেদ দূরীকরণ এবং সমঝোতার মাধ্যমে বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা করবেন। আমি হিন্দু সম্প্রদায়ের অনুরোধেই নির্বাচন করছি। তিনি কাকেও বিমুখ করবেন না বলে জানান।

সভাপতি পদের আরেক প্রার্থী সিরাজুল হক জানান, ভোটের পরিস্থিতি মোটামুটি। তবে তিনি জয় এবং সার্বিক ব্যাপারে আর মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী বিজন ধর বলেন, এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক। ভোটারদের দাবি- দাওয়ার মধ্যে রয়েছে অফিস সংস্কার, তহবিল গঠন ও ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা বিধান। জয়ের ব্যাপারে তিনি শতভাগ আশাবাদী। উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটাররাও উৎসাহিত হচ্ছেন বলে জানান তিনি। ঈগল প্রতীকের এ প্রার্থী রামু কাউয়ারখোপ বণিক পাড়ার সভাপতি এবং মহোৎসব ও মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। অপর সাধারন সম্পাদক প্রার্থী সুকুমার মল্লিক জানান, পরিস্থিতি ভালো। কোন ধরনের শংকা নেই। নির্বাচিত হলে তিনি ব্যবসায়ীদের ঐক্য শক্তিশালী করণ, প্রশাসনের সাথে সম্পর্ক রেখে সমিতির কার্যক্রম পরিচালনা, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক  কার্যক্রম পরিচালনা এবং বন্ধকী সমস্যার প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণে ভূমিকা রাখবেন।

সমিতির প্রভাবশালী সদস্য মঞ্জুরুল হক চৌধুরী বলেন, স্বভাবতই এ এলাকাটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এলাকা হিসেবে পরিচিত। আমাদের রয়েছে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

যার প্রমাণ হচ্ছে চৌকিদার থেকে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ পর্যন্ত এর ধারাবাহিকতা রয়েছে।

তিনি মনে করেন, অসাম্প্রদায়িক সংগঠন হিসেবে এ সমিতি কে স্থাপন করতে না পারলে সমিতির কার্যক্রমে কোন গতিশীলতা আসবে না। সমিতির মূল লক্ষ্য- উদ্দেশ্য সফল হবে না। সাম্প্রদায়িকতা চিন্তা করলে সমিতি কার্যকর কোন কিছু করতে পারবে না। তিনি যুক্তি দেখিয়ে বলেন, সমিতিকে অসাম্প্রদায়িক সংগঠন হিসেবে চিন্তা করলে মুসলিম প্রার্থীদেরকে বিজয়ী করে আনতে হবে।

নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহবায়ক বাবু মৃণাল আচার্য্য বলেন, যে যার মতে নির্বিঘ্নে প্রচারণা চালিয়েছেন। কোন ধরনের কাঁদা ছোড়াছুড়ি নেই। নেই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের কোন সম্ভাবনা। সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। হিন্দু সম্প্রদায়ের আগ্রহেই মুসলিমরা প্রতিদ্বন্দিতা করছেন।

নির্বাচন পরিচালনার সাথে সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, থানার অফিসার ইনচার্জ, স্থানীয় তিন চেয়ারম্যান, জেলা কমিটির নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় সাংবাদিকরা নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন। ওসির নেতৃত্বে চার সদস্যের পুলিশ দল নির্বাচন চলাকালে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *