রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ০৪:২৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
সেনাবাহিনীর উদ্যোগে দুর্গম এলাকায় বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা এবং ঔষধ বিতরণ বান্দরবান এলজিইডির বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন বাঘাইছড়িতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন লামায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন “সবুজে গড়বো আগামীর বাংলাদেশ” খাগড়াছড়িতে শুরু হলো বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি থানচিতে উদ্যোক্তা মেলা ও পিঠা উৎসব প্রধানমন্ত্রীর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি; পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন খাগড়াছড়ি সদর এলজিইডি’র আয়োজনে বৃক্ষরোপন কর্মসূচি পালন সীমান্তে অপরাধ ও সন্ত্রাস দমনে পানছড়ি কেষ্টমনি পাড়ায় বিজিবি’র নতুন ক্যাম্প স্থাপন প্রধানমন্ত্রীকে দেখার জন্য ঈদগাঁওবাসী ছিলেন অধির অপেক্ষায় বান্দরবানের ক্রীড়াঙ্গনে নারী ক্রীড়াবিদদের মর্যাদা, নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিতকরণে এক কর্মশালা রাজস্থলীতে ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন নওমুসলিমদের নির্যাতনের অভিযোগে রাজস্থলীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ পানছড়িতে ‘৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির’ উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে বাঘাইছড়িতে ২৫ হাজার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন এডুকেশনাল এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কীম (EESS) এর আওতায় , সৌকেসিং প্রোগ্রাম

রুমায় ঝড়ে বৃদ্ধের ঘরে গাছের ডাল, অল্পের জন্য রক্ষা

Reporter Name

মো: লোকমান হাকিম, রুমা প্রতিনিধি।।
বান্দরবানের রুমা উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড়ে বসতঘরের ওপর বড় আকৃতির আমগাছের ডাল ভেঙে পড়লেও অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন ৮১ বছর বয়সী জিংআলহ্ বম। এ ঘটনায় তাঁর বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি বাগানের আম ও অন্যান্য ফসলেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

শনিবার (৩০ মে) সকালে রুমা সদর ইউনিয়নের এডেন রোড পাড়ায় নিজ বাড়িতে দাঁড়িয়ে ঘটনার বর্ণনা দেন জিংআলহ্ বম। তিনি জানান, ঝড়ের আগের দিন পাশের বাড়ির এক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মারা গেলে প্রতিবেশী হিসেবে তিনি সেখানে যান এবং লাশের পাশে অবস্থান করছিলেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড় শুরু হলে পরিস্থিতি খারাপ দেখে নিজের ঘরের দিকে রওনা দেন। বয়সের কারণে লাঠির সাহায্যে হাঁটতে হওয়ায় ঘরে পৌঁছাতে কিছুটা সময় লাগে তাঁর।

জিংআলহ্ বম বলেন, “ঘরের বারান্দায় পা দিয়ে ভেতরে ঢোকার মুহূর্তেই বিকট শব্দে একটি বড় আমগাছের ডাল ছাদের ওপর ভেঙে পড়ে। ডালটি আমার কানের পাশ ঘেঁষে পড়ে। মনে হচ্ছিল ঘরটি ভূমিকম্পের মতো কেঁপে উঠছে। আল্লাহর রহমতে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেছি। আর কয়েক সেকেন্ড আগে হলে হয়তো আমিও মারা যেতাম।”

স্থানীয়রা জানান, ওই দিনের প্রবল ঝড়ে রুমার বিভিন্ন এলাকায় আমসহ নানা ফল-ফসল ব্যাপকভাবে ঝরে পড়ে। এতে অনেক কৃষক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, জিংআলহ্ বমের ঘরের একপাশের ছাদ গাছের ডাল পড়ে দেবে গেছে। পরে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় ডালটি সরিয়ে ফেলা হলেও ক্ষতিগ্রস্ত ছাদ এখনো মেরামত করা হয়নি।

রুমা সদর ইউনিয়নের এডেন রোড পাড়ার বাসিন্দা ও পাড়া প্রধান (কারবারি) জিংআলহ্ বম বর্তমানে স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করেন। ছেলে-মেয়েরা বিয়ে করে আলাদা সংসার গড়েছেন। বার্ধক্যে স্বামী-স্ত্রী দুজনই বাগানের আয়ের ওপর নির্ভরশীল।

তিনি বলেন, “ঝড়ে বাগানের আমসহ বিভিন্ন ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। ঘরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘর মেরামতের জন্য ঢেউটিন প্রয়োজন। কিন্তু কোথা থেকে পাব বুঝতে পারছি না। বয়সের কারণে ঠিকমতো হাঁটতেও পারি না। উপজেলা প্রশাসন বা ইউনিয়ন পরিষদেও যেতে পারছি না। কেউ যদি মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন, তাহলে ভাঙা ঘরটি মেরামত করতে পারব।”

স্থানীয়দের দাবি, ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত এই বৃদ্ধ দম্পতির পাশে দাঁড়াতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন। দ্রুত ঘর মেরামতের সহায়তা পেলে জীবনের শেষ সময়ে নিরাপদ আশ্রয়ে বসবাস করতে পারবেন তারা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *