বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:৫৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত আগ্রহী: প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল পাহাড়ে কৃষি বিপ্লব ঘটানোর তাগিদ- পার্বত্য মন্ত্রী সাচিং প্রু আশিকা ডেভেলপমেন্ট এ্যাসোসিয়েটস এর উদ্যোগে প্রকল্পের অভিজ্ঞতা বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত মহালছড়ি উপজেলায় জাবারং কল্যান সমিতির আয়োজনে প্রকল্প অবহিতকরণ ও মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত খাগড়াছড়িতে জেলা পুলিশের উদ্যোগে মাদকবিরোধী সুধী সমাবেশ ও র‌্যালী ১১টি মাদক মামলার এজাহারনামীয় আসামি নয়ন চৌধুরী ৩৪৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ গ্রেপ্তার গুইমারায় সিন্দুকছড়ি জোনের মাসিক নিরাপত্তা ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত মাতামুহুরীর অব্যাহত ভাঙ্গনে বিলীনের পথে শতবর্ষী মেরাখোলা কবরস্থান বিলাইছড়িতে বিনামূল্যে ৮ হাজার ৪০০ চারা বিতরণ কাপ্তাইয়ে গ্রাম পুলিশের মাঝে বাইসাইকেল ও পোশাক সামগ্রী বিতরণ ঘর নেই, স্বজন নেই—জরাজীর্ণ যাত্রী ছাউনিতে ৭৫ বছরের অসুস্থ জহুরা পেরাছড়ায় কমিউনিটি এডুকেশন ওয়াচ গ্রুপের ত্রৈমাসিক সভা পর্যটন সম্ভাবনার নতুন দুয়ার খুলছে রাজস্থলীর ‘বড় ঝর্ণা’ খাগড়াছড়ির দুর্গম পাহাড়ে বেকারদের জন্য বিনামূল্যে কারিগরি প্রশিক্ষণ নতুন দায়িত্ব পেয়েই দীঘিনালায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্যবৃন্দরা ঈদগাঁওতে মাদকের সরঞ্জামসহ ১২ মাদকসেবী আটক

লামায় বন্যহাতির তাণ্ডবে পাহাড়ি গ্রামে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

মো. ইসমাইলুল করিম, লামা প্রতিনিধি।।

পার্বত্য জেলা বান্দরবানের লামা উপজেলায় বন্যহাতির তাণ্ডবে পাহাড়ি গ্রামগুলোতে কৃষকদের ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড খেদারবান–সুতাবাদী নয়াপাড়াসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের পাহাড়ি এলাকায় গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে একাধিক বন্যহাতির দল নিয়মিতভাবে লোকালয়ে নেমে আসছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত একটানা কয়েক রাত ধরে বন্যহাতির একটি পাল কলাগাছ, আলু, সিমসহ বিভিন্ন সবজি ক্ষেত আক্রমণ করে। হাতির দল ক্ষেতের ফসল খেয়ে ও পায়ের চাপে মাড়িয়ে নষ্ট করায় অনেক কৃষক চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টায় লামা ডলুছড়ি রেঞ্জের কর্মকর্তা এস এম হাবিবুল্লাহ সঙ্গীয় বনরক্ষী দল, স্থানীয় ইউপি সদস্য এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সঙ্গে নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।

গ্রামবাসীরা জানান, জানমাল ও ফসল রক্ষায় তারা রাতের পর রাত নির্ঘুম কাটাচ্ছেন। দিনের বেলায় বন্যহাতির পাল গহীন অরণ্যে অবস্থান করলেও সন্ধ্যা নামলেই খাদ্যের সন্ধানে লোকালয়ে নেমে আসে। ফসল রক্ষায় কৃষকরা বাধ্য হয়ে রাতে মশাল জ্বালিয়ে, ঢাকঢোল বাজিয়ে, টিন পিটিয়ে ও হই-হুল্লোড় করে ক্ষেত পাহারা দিচ্ছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, “বন্যহাতির আক্রমণে আমার কলাগাছ ও সবজি ক্ষেত সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়ে গেছে। এতে এক লাখ টাকারও বেশি ক্ষতি হয়েছে। পরিবার নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় আছি।”

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, প্রতিবছরই বন্যহাতির পাল খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে এসে ফসল নষ্টের পাশাপাশি কখনো কখনো প্রাণহানির ঘটনাও ঘটাচ্ছে। অথচ হাতির উপদ্রব রোধে এখনো কার্যকর ও স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। ফলে পাহাড়ি এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরেই আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করছে।

লামা ডলুছড়ি রেঞ্জের কর্মকর্তা এস এম হাবিবুল্লাহ বলেন, “বন্যহাতির পাল দিনের বেলায় উপজেলার বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকার গভীর জঙ্গলে অবস্থান করে। সন্ধ্যা হলেই তারা খাদ্যের সন্ধানে লোকালয়ে নেমে আসে। বন্যহাতি ও ফসল রক্ষায় আমাদের টিম নিয়মিত তৎপর রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা বন বিভাগের নির্ধারিত ফরমে আবেদন করলে সরকারিভাবে ফসলের ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি বন্যহাতিকে উত্ত্যক্ত না করার জন্য স্থানীয়দের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। তাঁর মতে, কলাগাছ হাতির প্রধান খাদ্য হওয়ায় কলাবাগান এলাকাগুলো তুলনামূলকভাবে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।

এদিকে, বন্যহাতির আক্রমণ থেকে মানুষ ও ফসল রক্ষায় দ্রুত কার্যকর ও স্থায়ী সমাধান গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও কৃষকরা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *