রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ০৭:৪৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
খাগড়াছড়িতে বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনের মিলনমেলা, তরুণদের সৃজনশীল ভাবনায় ভবিষ্যতের স্বপ্ন গুম-অপহরণের ‘নাটক’ ও অপপ্রচারের অভিযোগে কাচালং সরকারি কলেজ ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল সেনাবাহিনীর উদ্যোগে দুর্গম এলাকায় বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা এবং ঔষধ বিতরণ বান্দরবান এলজিইডির বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন বাঘাইছড়িতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন লামায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন “সবুজে গড়বো আগামীর বাংলাদেশ” খাগড়াছড়িতে শুরু হলো বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি থানচিতে উদ্যোক্তা মেলা ও পিঠা উৎসব প্রধানমন্ত্রীর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি; পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন খাগড়াছড়ি সদর এলজিইডি’র আয়োজনে বৃক্ষরোপন কর্মসূচি পালন সীমান্তে অপরাধ ও সন্ত্রাস দমনে পানছড়ি কেষ্টমনি পাড়ায় বিজিবি’র নতুন ক্যাম্প স্থাপন প্রধানমন্ত্রীকে দেখার জন্য ঈদগাঁওবাসী ছিলেন অধির অপেক্ষায় বান্দরবানের ক্রীড়াঙ্গনে নারী ক্রীড়াবিদদের মর্যাদা, নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিতকরণে এক কর্মশালা রাজস্থলীতে ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন নওমুসলিমদের নির্যাতনের অভিযোগে রাজস্থলীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ পানছড়িতে ‘৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির’ উদ্বোধন

লামায় বন্যহাতির তাণ্ডবে পাহাড়ি গ্রামে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

মো. ইসমাইলুল করিম, লামা প্রতিনিধি।।

পার্বত্য জেলা বান্দরবানের লামা উপজেলায় বন্যহাতির তাণ্ডবে পাহাড়ি গ্রামগুলোতে কৃষকদের ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড খেদারবান–সুতাবাদী নয়াপাড়াসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের পাহাড়ি এলাকায় গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে একাধিক বন্যহাতির দল নিয়মিতভাবে লোকালয়ে নেমে আসছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত একটানা কয়েক রাত ধরে বন্যহাতির একটি পাল কলাগাছ, আলু, সিমসহ বিভিন্ন সবজি ক্ষেত আক্রমণ করে। হাতির দল ক্ষেতের ফসল খেয়ে ও পায়ের চাপে মাড়িয়ে নষ্ট করায় অনেক কৃষক চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টায় লামা ডলুছড়ি রেঞ্জের কর্মকর্তা এস এম হাবিবুল্লাহ সঙ্গীয় বনরক্ষী দল, স্থানীয় ইউপি সদস্য এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সঙ্গে নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।

গ্রামবাসীরা জানান, জানমাল ও ফসল রক্ষায় তারা রাতের পর রাত নির্ঘুম কাটাচ্ছেন। দিনের বেলায় বন্যহাতির পাল গহীন অরণ্যে অবস্থান করলেও সন্ধ্যা নামলেই খাদ্যের সন্ধানে লোকালয়ে নেমে আসে। ফসল রক্ষায় কৃষকরা বাধ্য হয়ে রাতে মশাল জ্বালিয়ে, ঢাকঢোল বাজিয়ে, টিন পিটিয়ে ও হই-হুল্লোড় করে ক্ষেত পাহারা দিচ্ছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, “বন্যহাতির আক্রমণে আমার কলাগাছ ও সবজি ক্ষেত সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়ে গেছে। এতে এক লাখ টাকারও বেশি ক্ষতি হয়েছে। পরিবার নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় আছি।”

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, প্রতিবছরই বন্যহাতির পাল খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে এসে ফসল নষ্টের পাশাপাশি কখনো কখনো প্রাণহানির ঘটনাও ঘটাচ্ছে। অথচ হাতির উপদ্রব রোধে এখনো কার্যকর ও স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। ফলে পাহাড়ি এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরেই আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করছে।

লামা ডলুছড়ি রেঞ্জের কর্মকর্তা এস এম হাবিবুল্লাহ বলেন, “বন্যহাতির পাল দিনের বেলায় উপজেলার বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকার গভীর জঙ্গলে অবস্থান করে। সন্ধ্যা হলেই তারা খাদ্যের সন্ধানে লোকালয়ে নেমে আসে। বন্যহাতি ও ফসল রক্ষায় আমাদের টিম নিয়মিত তৎপর রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা বন বিভাগের নির্ধারিত ফরমে আবেদন করলে সরকারিভাবে ফসলের ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি বন্যহাতিকে উত্ত্যক্ত না করার জন্য স্থানীয়দের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। তাঁর মতে, কলাগাছ হাতির প্রধান খাদ্য হওয়ায় কলাবাগান এলাকাগুলো তুলনামূলকভাবে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।

এদিকে, বন্যহাতির আক্রমণ থেকে মানুষ ও ফসল রক্ষায় দ্রুত কার্যকর ও স্থায়ী সমাধান গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও কৃষকরা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *