শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:২২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
বাইশারীতে কাঠ ব্যবসায়ীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার বাঘাইছড়িতে সেনাবাহিনীর ব্যবস্থাপনায় ৫৭ রোগীকে বিনামূল্যে চক্ষু সেবা দীঘিনালায় অতিরিক্ত মজুদের অভিযোগে ২১ টন সার জব্দ বাল্যবিয়ের শিকার থেকে নির্যাতিত নারী-শিশুর পাশে সাজেদা রাজস্থলীতে গর্ভবতী নারী ও শিশুর স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রশিক্ষণ সমাপ্ত শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য স্থির রেখে এগিয়ে যেতে হবে: পার্বত্য মন্ত্রী কাপ্তাইয়ে বিজিবির অভিযানে ২৮ লাখ টাকা জব্দ, আটক ২ খাগড়াছড়িতে বন্যা-ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত ৪০০ পরিবার পেল নগদ আর্থিক সহায়তা খাগড়াছড়িতে খোলা ভোজ্যতেল বিক্রি বন্ধে জেলা অ্যাডভোকেসি সভা বিদায়ের মঞ্চে অশ্রুসিক্ত মহালছড়ির শিক্ষকরা, সম্মান জানাল প্রাথমিক শিক্ষা পরিবার সরকারি খরচে আইনগত সহায়তা প্রদানে বাঘাইছড়িতে সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত দীঘিনালায় বন্যাদুর্গত ২৫০ পরিবারকে রেড ক্রিসেন্টের খাদ্য সহায়তা বাঘাইছড়ি এ্যাডমিনিস্ট্রেশন স্কুলে বিজ্ঞান ল্যাব ও লাইব্রেরি উদ্বোধন অসহায় বৃদ্ধার পাশে রাঙামাটি জেলা ছাত্রদল নেতা বান্দরবানে এসএসসি উত্তীর্ণ ১৬৮ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা লক্ষ্মীছড়িতে লজ্জাবতী বানর উদ্ধার

শুকিয়ে গেছে ঝিরি, ঝর্না ও ছড়া বাঘাইছড়ির দূর্গম পাহাড়ি গ্রামে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট

Reporter Name

বাঘাইছড়ি প্রতিনিধি-

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় শতাধিক  গ্রামে খাবার পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। অপরিকল্পিত জুম চাষের কারণে বন উজাড় হওয়ায় এবং ছড়া ও ঝরনা শুকিয়ে যাওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয়  প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বাঘাইছড়ি উপজেলা সদরের আশপাশের এলাকা জীবতলী,  কচুছড়ি, ৪ কিলো নোয়া আদাম, মুসলিম ব্লক, প্রশিক্ষণ টিলা বাঙালী পাড়া,  সাজেকসহ বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় শতাধিক  গ্রামে ৩০ হাজারের বেশি লোক এখন পানির সংকটে আছেন। এসব লোকজন যুগ যুগ ধরে ঝরনা, ছড়া ও ঝিরি থেকে পানি ব্যবহার করে জীবন যাপন করছেন। তবে এখন এসব এলাকার বেশির ভাগ প্রকৃতিক ঝিরি ঝরনা শুকিয়ে গেছে। অব্যাহতভাবে গাছ কাটার ফলে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় পানির স্তর নিচে নেমে গেছে। এই কারণে ঝিরি-ঝরনা শুকিয়ে গেছে বলে জানান এসব এলাকার বাসিন্দারা।

শুকনো মৌসুমের এসব গ্রামে তীব্র পানির সংকট দেখা দেয়। গ্রামের দুই থেকে তিন কিলোমিটার দূরে গিয়েও পানি পাচ্ছেন না বাসিন্দারা। দীর্ঘ কয়েক যুগ ধরে বসবাস করলেও পানির অভাবে এসব গ্রামের অনেক বাসিন্দা গ্রাম ছাড়ার কথা ভাবছেন।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সমতল এলাকা চেয়ে এক থেকে দুই হাজার ফুট ওপরে অবস্থিত এসব গ্রামে নলকূপ কিংবা রিংওয়েল বসানোর কোনো ব্যবস্থা নেই। বাসিন্দাদের একমাত্র পানির উৎস ঝিরি-ঝরনা।

সম্প্রতি বাঘাইছড়ির নানা এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সাজেক ইউনিয়নের ৯ নম্বর পাড়া, ৮ নম্বর পাড়া শিয়ালদাই, হাচ্ছেপাড়া, অরুনপাড়া ও লংকরসহ নানা গ্রামে পানির জন্য হাহাকার বিরাজ করছে। এসব গ্রামে ৩০ থেকে ৫০টি পরিবারের বসবাস। গ্রামগুলোর পাহাড়ি ভূমিতে ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে জুম চাষ হয়। আশপাশের পাহাড়ে গাছ নেই বললেই চলে। বনদস্যুরা নির্বিচারে গাছ কাটার ফলে এখন ঝিরি-ঝরনায় পানি পাওয়া যায় না।

সাজেকের শিয়ালদাই গ্রামের কারবারি ভুজন ত্রিপুরা ও লক্ষ্মীবালা চাকমা বলেন, গত বছর এ সময়  কোনো পানির অভাব ছিল না।

এ বছর মার্চ মাসের শেষের দিকে পানি সংকট শুরু হয়। আজ থেকে আট থেকে দশ বছর আগে গ্রামের আশপাশের ছড়াগুলোতে সারা বছর পানি পাওয়া যেত। জুম চাষ বাড়ায় ও বন উজাড় হয়ে যাওয়ায় দিন দিন পানি সংকট দেখা দিচ্ছে।

সাজেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অতুলাল চাকমা বলেন, এখন আর আগের মতো পাহাড়ি ঝরনায় পানি নেই। সে কারণে পানির অভাব বেশি।

উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী রুশো খিশা  বলেন, এসব গ্রামে পানি সরবরাহ করতে হলে দাতা সংস্থার প্রয়োজন হবে। এসব জায়গায় আগে নিবিড় বন ছিল। তবে এখন বন উজাড় হয়ে যাওয়ায় পানির স্তর কমে গেছে।

বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার আমেনা মারজান বিষয়টি শিকার করে বলেন অবাদে জুমচাষের নামে বন উজর ও বৃষ্টি পাত কম হওয়ায় পাহাড়ি এলাকায় পানির সংকট দেখা দিয়েছে, বৃষ্টি পাত হলে এই সংকট কেটে যাবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *