
স্টাফ রিপোর্টার।।
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নে ইঁদুরবন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫৫০টি পরিবারের জন্য মানবিক সহায়তা কার্যক্রম বাস্তবায়নে অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে নগদ অর্থ ও খাদ্যসামগ্রী প্রদান করা হবে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুরে বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমেনা মারজান। সভায় সভাপতিত্ব করেন ৩৬ নম্বর সাজেক ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও চেয়ারম্যানের প্রতিনিধি (হেডম্যান) জৌপুই থাং ত্রিপুরা।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নুর আলম, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জয়াস চাকমা, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সঞ্চয়ন চাকমা, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সুপ্তাশ্রী সাহা, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা নিক্সন চাকমা, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা নবা আলো চাকমা, এলজিইডির উপ-সহকারী প্রকৌশলী সাজু আহমেদ এবং বাঘাইছড়ি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. আনোয়ার হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
সভার শুরুতে প্রকল্পের উদ্দেশ্য, কার্যক্রম ও বাস্তবায়ন কৌশল তুলে ধরে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রকল্পের সুপারভাইজার মচরন ত্রিপুরা। প্রকল্পের বিভিন্ন দিক উপস্থাপন করেন ফোকাল পারসন বিদ্যুৎ জ্যোতি চাকমা। কারিতাস বাংলাদেশের পক্ষে প্রকল্পের সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে বক্তব্য দেন টিম লিডার শুভ্রা তেরেজা সরদার। এছাড়া কমিউনিটি অর্গানাইজার প্রকাশ ত্রিপুরা, নমিতা ত্রিপুরা ও শাকিল ত্রিপুরাসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
সিএএফওডি (CAFOD), কারিতাস হংকং ও কারিতাস বাংলাদেশের সহযোগিতায় জাবারাং কল্যাণ সমিতি “Humanitarian Assistance to Rat Flood Affected People in Rangamati District” শীর্ষক প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পের আওতায় বাঘাইছড়ি উপজেলার ৫৫০টি ইঁদুরবন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে নগদ সহায়তা ও খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হবে, যা তাদের জরুরি খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং জীবিকা পুনরুদ্ধারে সহায়ক হবে।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, জাবারাং কল্যাণ সমিতি অতীতেও বিভিন্ন দুর্যোগে সফলভাবে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছে। ইঁদুরবন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অন্যান্য ইউনিয়নেও প্রয়োজনভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ করে এ ধরনের কার্যক্রম সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা। একই সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়।
প্রধান অতিথি ইউএনও আমেনা মারজান বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সব সরকারি দপ্তরের সমন্বিত সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান।
সভা শেষে জাবারাং কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে প্রকল্প বাস্তবায়নে সহযোগিতা ও দিকনির্দেশনার জন্য উপজেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।