
প্রতিনিধি, খাগড়াছড়ি ||
“সারাদেশে পুকুর, খাল উন্নয়ন প্রকল্প (২য় সংশোধিত)” শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় আয়বর্ধনমূলক প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলায় গরু মোটাতাজাকরণ, মাছ চাষ ও শাক-সবজি চাষ বিষয়ক একদিনব্যাপী প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় খাগড়াছড়ি সদর উপজেলায় খননকৃত পূর্ব গামারী ঢালা পেরিমহন চাকমার জমি হতে চেঙ্গী নদী পর্যন্ত খালের সর্বোচ্চ এক কিলোমিটারের মধ্যে বসবাসরত বেকার, অসহায় ও অতিদরিদ্র নারী-পুরুষদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। প্রকল্পের উপকারভোগী ৪০ জন প্রশিক্ষণার্থী এ প্রশিক্ষণে অংশ গ্রহন করেন।
প্রশিক্ষণে গরু মোটাতাজাকরণের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য, উপযুক্ত প্রাণী নির্বাচন, খাদ্য ব্যবস্থাপনা, চিকিৎসা পদ্ধতি, ওজন নির্ণয়ের কৌশল ও বাজারজাতকরণ বিষয়ে আলোচনা করেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা। মাছ চাষ বিষয়ে বাংলাদেশে সম্ভাবনা, পুকুর নির্বাচন ও প্রস্তুত, পোনা মজুদ, চুন ও সার প্রয়োগ, পুকুর ব্যবস্থাপনা ও বাজারজাতকরণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা। এছাড়া শাক-সবজির গুরুত্ব, মৌসুমভিত্তিক সবজির পরিচিতি, জমি প্রস্তুত, পোকা-মাকড় দমন ও বাজারজাতকরণ বিষয়ে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা।
প্রশিক্ষণের শেষ পর্বে নারীর ক্ষমতায়ন, জেন্ডার সমতা এবং সারাদিনের প্রশিক্ষণ মূল্যায়ন বিষয়ে আলোচনা ও অংশগ্রহণকারীদের মতামত গ্রহণ করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী দপ্তরের সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মো. আনোয়ার রহমান, খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারিয়া সুলতানা, খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মো. রাজু আহমেদ, কমলছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুনীল চাকমা, সাবেক চেয়ারম্যান সুনীল খীসা, সদর দপ্তর থেকে আগত ট্রেনিং এক্সপার্ট মো. জাহাঙ্গীর হোসেন এবং সংশ্লিষ্ট মৌজা হেডম্যান গ্যানলাল দেওয়ান।
বক্তারা বলেন, এ ধরনের আয়বর্ধনমূলক প্রশিক্ষণ দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।