মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৩৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
রামু কেন্দ্রীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অভিভাবক সমাবেশ ও বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা উপজেলা হাসপাতালে প্রতিনিয়ত বাড়ছে রোগী,কমছে বরাদ্দ ও জনবল খাগড়াছড়ি সীমান্তে ১৯ লাখ টাকার ভারতীয় শাড়ি জব্দ করেছে বিজিবি রাঙ্গামাটি কোতয়ালী থানার বিশেষ অভিযানে ১১ গ্রেফতার ঢাকায় বসে শুধু নির্দেশনা দেওয়ার পক্ষে আমি নই; মাঠে ফিজিক্যালি প্রেজেন্ট থেকে পরিস্থিতি দেখে ব্যবস্থা নিতে চাই: পার্বত্য মন্ত্রী সাচিং প্রু রাজস্থলীতে নজরুল বর্ষের সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন দীঘিনালায় নজরুল বর্ষের উদ্বোধন, কবিতা-গানে মুখর অডিটোরিয়াম অনুপস্থিত থেকেও হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর: নারায়ণগঞ্জ ভূমি অফিসের এ অনিয়মে ভূমি প্রতিমন্ত্রীর অসন্তোষ প্রকাশ বাঘাইছড়িতে পাহাড়ধসে বসতঘর বিধ্বস্ত, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে বিএনপি বরকলে ইউনিয়ন পরিষদের সেবা নিয়ে ভোগান্তি, অনিয়মের অভিযোগ বিলাইছড়িতে সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নজরুল বর্ষের উদ্বোধন পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি ও উন্নয়নে সেনাবাহিনীর বিভিন্ন উদ্যোগ সম্প্রীতির বান্দবান ফুটবল টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন কিংস অব বনরুপা খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ কোনো নির্দিষ্ট দল, গোষ্ঠী বা সম্প্রদায়ের নয়: ম্রাসা থোয়াই মারমা মাটিরাঙ্গায় কৃষক কার্ড কার্যক্রম শুরু, তথ্য সংগ্রহ ১,৩৯৩ কৃষকের বান্দরবানে সীমান্ত সড়কে গাড়ি দুর্ঘটনায় নিহত ১, আহত ৩

লামায় রাজনৈতিক দলের বিভেদ থাকলেও অবৈধ বালু উত্তোলনে সবাই মিলেমিশে একাকার

Reporter Name

মো. ইসমাইলুল করিম, প্রতিনিধি:

পার্বত্য জেলা বান্দরবানের লামা উপজেলায় প্রশাসন থেকে সরকার অনুমোদিত কোনো বালু মহাল নেই বলে জানাগেছে। অথচ উপজেলার ফাঁসিয়াখালী, একটিমাত্র ইউনিয়নে দুই শতাধিক পয়েন্ট থেকে বালু উত্তোলন চলমান রয়েছে। প্রতিদিন এইসব পয়েন্ট থেকে কয়েক হাজার গাড়ি অবৈধ বালু পাচার হচ্ছে। সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে অবৈধ বালু বাণিজ্যেও হয়েছে হাতবদল। রাজনৈতিক মাঠে দলের বিভেদ থাকলেও অবৈধ বালু উত্তোলনে সবাই মিলেমিশে একাকার বলে জানান স্থানীয়রা।

লামা উপজেলা ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের অন্যতম পানির উৎস হারগাজা ছড়া, বাইশারী খাল, ফাঁসিয়াখালী খাল, বগাইছড়ি ছড়া সহ ফকিরাখোলা, কাম্মারঝিরি, সাপেরঘারা, কুরুকপাতা ঝিরি, লাইল্যারমার পাড়া, ত্রিশডেবা, কমিউনিটি সেন্টার, বগাইছড়ি, বড়ছনখোলা, কুমারী চাককাটা, পেতাইন্নাছড়া এলাকা থেকে গত ১৬ বছর ধরে আওয়ামী লীগের ছত্রছায়ায় থাকা প্রভাবশালীরা বালু তুলছিল। সরকারের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বালুর বাণিজ্য চলে গেছে বিএনপির প্রভাবশালীদের হাতে। গত ৫ আগস্ট বিগত সরকারের পতনে ক্ষতিগ্রস্তরা এই ভেবে আশাবাদী হয়েছিলেন যে, দীর্ঘদিন ধরে চলা বালু-দস্যুতা এবার হয়ত বন্ধ হবে। কিন্তু এখনো আরো বিশাল পরিসরে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অবৈধভাবে বালু তুলছে প্রভাবশালী কয়েকটি মহলটি। দুই শতাধিক পয়েন্ট থেকে প্রতিদিন কয়েক হাজার গাড়ি অবৈধ বালু পাচার হচ্ছে এমন তথ্য পাওয় যায়।

সরেজমিনে অনুসন্ধানে গেলে শনিবার (০৪ এপ্রিল) দুপুরে ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড ফকিরাখোলা এলাকার কাম্মারঝিরি বিলে দেখা যায়, সবুজ ধানের মাঠ ও পাহাড়ের পাশে জমিতে বিশাল গর্ত করে পানি দিয়ে সেলু মেশিনে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। একদিক থেকে বালু উত্তোলন হচ্ছে অন্যদিক ভেঙ্গে যাচ্ছে ফসলের জমি। এভাবে বিস্তৃর্ণ ফসলের মাঠ এখন যুদ্ধ বিধ্বস্ত এলাকার মত ক্ষতবিক্ষত হয়ে গেছে। এখানে বালু উত্তোলন করছে উক্ত গ্রামের অনেকে। প্রতিদিন এই পয়েন্ট থেকে কয়েকশত ট্রাক বালু পাচার হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানায়, বালু উত্তোলনের ফলে নদী-খালগুলোর স্বাভাবিক গতি হারিয়ে গেছে। পাহাড়ধস, বসতবাড়ি, ফসলি জমি বিলীনের পাশাপাশি শুষ্ক মৌসুমে খালগুলোতে পানি শুকিয়ে যায়। উত্তোলিত বালু বড় বড় ট্রাকে পাচার করতে গিয়ে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা কর্তৃক কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ব্রিজ, কালভার্ট, সড়কগুলো ভেঙ্গে তছনছ হয়ে যাচ্ছে। বালু পরিবহনে ধূলাবালিতে এলাকার মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। এলাকাবাসী পরিবেশ অধিদপ্তর, উপজেলা প্রশাসন এবং আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে অবগত করেও কোন প্রতিকার পাচ্ছেনা।

স্থানীয় গৃহবধূ নুরজাহান বেগম বলেন, ‘খাল থেকে বালি তোলার কারণে পানি কমার পাশাপাশি ফসলি জমির ভাঙন দেখা দিয়েছে। আবার বালু পরিবহনের কারণে সড়কের প্রায় স্থানের দু’পাশ দেবে গেছে। দুইটি ব্রিজ ইতিমধ্যে ধসে গেছে। দ্রুত বালু পরিবহনের গাড়ি চলাচল বন্ধ করা না হলে অচিরেই সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। অবিলম্বে ‘বালু খেকোদের’ দমন করতে না পারলে নদীভাঙন আরো প্রকট আকার ধারণ করবে।

ফকিরাখোলা এলাকার ছানাউল্লাহ নামে এক ব্যক্তি জানান, ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে বালু এনে পাশ্ববর্তী চকরিয়া উপজেলার ডুলহাজারা ইউনিয়নের পাগলির বিলে বড় বড় স্তুপ করে রাখা হয়। পরে সেখান থেকে পাচার হয় অবৈধ বালু।

ফকিরাখোলা, হারগাজা ও বগাইছড়ি বাজারের কয়েকজন দোকানদার বলেন, বালুর গাড়ির ধূলায় চোখ-মুখ বন্ধ করে থাকতে হয়। দোকান করাই মুশকিল হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই অবৈধ বালু উত্তোলন চলছে।

লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের প্রশাসক মো. মঈন উদ্দিন বলেন, বালু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত আছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেও বালু উত্তোলন ও পরিবহন বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না। ট্রাস্কফোর্সের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য আমরা জেলা প্রশাসনের কাছে জানিয়েছি। খুব শিগগিরই বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বান্দরবান পরিবেশ অধিদপ্তরকে নিয়মিত মামলা নিতে বলা হয়েছে বলে জানান তিনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *