
মোঃ হাচান আল মামুন, দীঘিনালা প্রতিনিধি
“সোনালী জীবন সুখের জীবন”—এই প্রত্যয়কে সামনে রেখে খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসির মাসিক উন্নয়ন সভা ও বীমা দাবি পরিশোধ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দীঘিনালায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে সাতজন গ্রাহকের মধ্যে মোট ৪ লাখ টাকার বীমা দাবি পরিশোধ করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের পরশুরাম ব্রাঞ্চ ম্যানেজার মোহাম্মদ ইউনুস (বিএম, পরশুরাম, ফেনী)। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাটিরাঙ্গা ইউনিট ম্যানেজার মো. খোরশেদ আলম ও ফেনীর ইউনিট ম্যানেজার রহমান মজুমদার।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোহাম্মদ ইউনুস বলেন, “বীমা শুধু একটি আর্থিক লেনদেন নয়, এটি একজন গ্রাহক ও তার পরিবারের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত। গ্রাহক আমাদের কাছে যে আস্থা নিয়ে বীমা করেন, সেই আস্থার মর্যাদা রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। দ্রুত ও স্বচ্ছতার সঙ্গে বীমা দাবি পরিশোধের মাধ্যমে আমরা গ্রাহকদের পাশে থাকতে চাই।”
তিনি আরও বলেন, “বর্তমান সময়ে প্রযুক্তিনির্ভর ও আধুনিক সেবার মাধ্যমে বীমাকে মানুষের কাছে আরও সহজ ও গ্রহণযোগ্য করে তুলতে হবে। নতুন গ্রাহক সৃষ্টি করার পাশাপাশি বিদ্যমান গ্রাহকদের সেবার মান আরও বাড়ানো এবং বীমা সম্পর্কে সাধারণ মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের দীঘিনালা ব্রাঞ্চের ইউনিট ম্যানেজার মো. দ্বীনইসলাম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মো. নজরুল ইসলাম (খোকন মাস্টার)। এ সময় দীঘিনালা ব্রাঞ্চের ইউনিট ম্যানেজার মো. ইদ্রিস আলীসহ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মী ও সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ২০২৬ সালে সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের পক্ষ থেকে সাতজন গ্রাহকের বীমা দাবি নিষ্পত্তি করা হয়েছে। হেড অফিস থেকে গ্রাহকদের নিজ নিজ ব্যাংক হিসাবে সরাসরি অর্থ স্থানান্তরের মাধ্যমে এসব দাবি পরিশোধ করা হয়। সাত গ্রাহকের মধ্যে রয়েছেন—মো. নুরআলম, মো. মুজিবুর রহমান, মো. ইব্রাহিম খলিল, মো. সাদ্দাম হোসেন ও মিন্টু চাকমা—সবাই মেরুং এলাকার; মো. মালেক হোসেন (ইয়ারংছড়ি) এবং মোছা. রেজিয়া আক্তার (মেরুং)।
সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের বর্তমান করপোরেট বার্তার অন্যতম ভিত্তি “Trust, Transparency, and Technology”—অর্থাৎ আস্থা, স্বচ্ছতা ও প্রযুক্তির সমন্বয়ে গ্রাহকসেবা নিশ্চিত করা। প্রতিষ্ঠানটি জীবনবীমাকে শুধু আর্থিক পণ্য হিসেবে নয়, গ্রাহক ও পরিবারের ভবিষ্যৎ সুরক্ষার একটি প্রতিশ্রুতি হিসেবে তুলে ধরে।
বক্তারা বলেন, মানুষের জীবনের অনিশ্চয়তা ও ভবিষ্যৎ আর্থিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে জীবনবীমার গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। গ্রাহকের আস্থা ধরে রাখতে দ্রুত দাবি নিষ্পত্তি, স্বচ্ছতা ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সেবা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সও গ্রাহকসেবাকে অগ্রাধিকার দিয়ে বীমার সুবিধা মানুষের কাছে আরও সহজভাবে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করছে।
সভায় প্রতিষ্ঠানের মাসিক উন্নয়ন কার্যক্রম, ব্যবসায়িক অগ্রগতি, গ্রাহকসেবা এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে নতুন গ্রাহক সৃষ্টি ও বীমা সম্পর্কে সাধারণ মানুষের সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের দীঘিনালা মেট্রোর আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে বীমা দাবির অর্থ গ্রাহকদের ব্যাংক হিসাবে পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে আর্থিক নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।