বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
লংগদুতে মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে সৎ বাবা গ্রেপ্তার, প্রতিবেশী যুবকও আটক খাগড়াছড়িতে কুষ্ঠরোগীদের অধিকার ও সেবা নিয়ে ওরিয়েন্টেশন পাহাড়ে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সমন্বিত উদ্যোগের আহবান সাজেক সেনাজোনের উদ্যোগে ১৭ চক্ষু রোগী চট্টগ্রামে থানচির বলীপাড়া বাজারে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ১৩ পরিবারকে ত্রাণ সহায়তা লক্ষ্মীছড়িতে ছয় পাড়ার মানুষের চলাচলে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী মীর হেলালের পক্ষে বলীপাড়ায় অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ পরিবেশবান্ধব পর্যটন গড়ার আহ্বান; পার্বত্য ও ভূমি প্রতিমন্ত্রীর বিলাইছড়ি উপজেলা ফুটবল দলকে সেনা জোনের সংবর্ধনা পানছড়িতে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের সাংগঠনিক সভা গুইমারায় মেডিকেল ক্যাম্প, চিকিৎসা পেলেন ৪৫০ জন মাটিরাঙ্গায় দুর্নীতিবিরোধী বিতর্কে চ্যাম্পিয়ন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় গুইমারায় অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও তরুণদের পাশে সেনাবাহিনী, গৃহ নির্মাণে ঢেউটিন ও ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ গুইমারায় সেনাসম্প্রীতি: সিন্দুকছড়ি জোনের উদ্যোগে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ বিতরণ বাঘাইছড়িতে রিপোর্টার্স ইউনিটির নতুন কার্যালয় উদ্বোধন বিলাইছড়িতে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা

রাঙামাটিতে দুর্গত মানুষের পাশে পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল, তিন পার্বত্য জেলায় ১,৩০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ

Reporter Name

দেবদত্ত মুৎসুদ্দী, রাঙামাটি প্রতিনিধি।।
টানা ভারী বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে বিপর্যস্ত রাঙামাটির সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং দুর্গত মানুষের খোঁজখবর নিতে বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে চট্টগ্রাম থেকে রাঙামাটিতে পৌঁছান পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল। পরে তিনি শহরের ভেদভেদী এলাকায় বন্যা ও দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য খোলা আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরত দুর্গত মানুষের সঙ্গে কথা বলেন, তাদের খোঁজখবর নেন এবং ত্রাণসামগ্রী ও খাবার বিতরণ করেন।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের সব সংস্থা দুর্গত মানুষের পাশে থেকে সমন্বিতভাবে কাজ করছে। প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের পর তাঁর নির্দেশনায় তিন পার্বত্য জেলার জন্য মোট ১ হাজার ৩০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রাঙামাটির জন্য ৫০০ মেট্রিক টন, খাগড়াছড়ির জন্য ৪০০ মেট্রিক টন এবং বান্দরবানের জন্য ৪০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করা হয়েছে। প্রয়োজন হলে আরও সহায়তা দেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টার পক্ষ থেকে অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। খাদ্যের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। তবে দুর্গত মানুষের জন্য নগদ সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে এবং সরকার সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়েছে।

ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে সবাইকে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে হবে। অনেক সময় সতর্কবার্তা উপেক্ষা করার কারণেই বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে খাবার, বিশুদ্ধ পানি, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুবিধার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, গত কয়েক দশকের মধ্যে এমন ভারী বর্ষণ খুব কম দেখা গেছে। অতিবৃষ্টি ও ভূমিধস একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলেও মানুষের জানমালের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকার, জেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণকে সচেতন করতে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে উৎসাহিত করতে হবে। মানুষের জীবন রক্ষাই এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।

এদিকে জেলা প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে, আবহাওয়ার পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কোথাও নতুন করে পাহাড়ধস বা বন্যার ঝুঁকি দেখা দিলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুর্গত মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাঙামাটির ১০ উপজেলায় ২১২টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে এখন পর্যন্ত প্রায় ৯০০ মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *