
বশির আহমেদ, বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি
ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, আনন্দ-উচ্ছ্বাস ও উৎসবমুখর পরিবেশে বান্দরবানে শুরু হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বান্দরবানের ঐতিহ্যবাহী রাজার মাঠে শ্রীশ্রী শারদীয় দুর্গাপূজার উদ্বোধন করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরী।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম, বান্দরবানের জেলা প্রশাসক মিজ নাজনীন সুলতানা, পুলিশ সুপার মো. ওহাবুল ইসলাম খন্দকারসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, বিএনপির নেতৃবৃন্দ এবং পূজা উদ্যাপন কমিটির প্রতিনিধিরা।
দেবীর আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া দুর্গোৎসবকে ঘিরে বান্দরবানের পূজামণ্ডপগুলোতে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের পাশাপাশি পরিবার-পরিজন ও স্বজনদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে প্রস্তুতি নিয়েছেন। আলোকসজ্জা, প্রতিমা দর্শন ও পূজার নানা আয়োজন ঘিরে মুখর হয়ে উঠেছে পূজামণ্ডপগুলো।
ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এবার দেবী দুর্গার আগমন ঘটছে ঘোড়ায়। শাস্ত্রীয় রীতি অনুসারে দেবীর আগমন ও গমন নিয়ে ভক্তদের মধ্যে রয়েছে নানা ধর্মীয় তাৎপর্য ও বিশ্বাস।
এদিকে, দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন করতে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা। পূজামণ্ডপগুলোতে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ, বিজিবি, সেনাবাহিনী, আনসার ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
পূজা উদ্যাপন কমিটি সূত্রে জানা গেছে, এ বছর বান্দরবান জেলার সাতটি উপজেলায় মোট ৩৩টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আগামী ২১ অক্টোবর প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে ছয় দিনব্যাপী এ উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।
বহুজাতিক ও বহুধর্মীয় সম্প্রীতির জেলা বান্দরবানে দুর্গোৎসবকে ঘিরে সব সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় হবে এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উৎসব সম্পন্ন করতে প্রশাসন, আয়োজক ও স্থানীয় বাসিন্দারা পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।
সকালে মহাষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হয় দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা। এ উপলক্ষে জেলার বিভিন্ন পূজামন্ডপে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। পূজাকে ঘিরে মন্ডপগুলোতে চলছে নানা আয়োজন।