
ঈদগাঁও প্রতিনিধি
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার সদর–রামু–ঈদগাঁও আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ সহিদুজ্জামান বলেছেন, শহীদ মৌলভী ফরিদ আহমেদ ছিলেন স্বৈরাচারী আইয়ুব খানবিরোধী আন্দোলনের সামনের সারির একজন নেতা। তিনি আজীবন ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে গেছেন। এ কারণেই তাঁকে নির্মমভাবে জীবন দিতে হয়েছে।
তিনি বলেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক সংকটে মৌলভী ফরিদ আহমেদের মতো আত্মত্যাগী নেতার প্রয়োজন। যিনি দেশের প্রয়োজনে নিজের জীবন দিতেও কার্পণ্য করেন না। আজ ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় বিপ্লবী ওসমান হাদীকে জীবন দিতে হয়েছে। ভারতের কারণেই শেখ হাসিনার মতো ফ্যাসিস্টের জন্ম হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে যদি মৌলভী ফরিদ আহমেদের মতো নেতা থাকতেন, তবে দেশে এ ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না।
মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) বিকেলে ঈদগাঁও উপজেলার মাছুয়াখালী ইউনিয়নের রতœগর্ভা রিজিয়া আহমেদ মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে শহীদ মৌলভী ফরিদ আহমেদের ৫৪তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মৌলভী ফরিদ আহমেদ তৎকালীন পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকারের শ্রমমন্ত্রী, ডাকসুর সাবেক ভিপি ও নেজামে ইসলাম পার্টির কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলেন। ১৯৭১ সালের ২৩ ডিসেম্বর রাজধানীতে তাঁকে নির্মম নির্যাতন ও পাশবিক কায়দায় হত্যা করা হয়।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সাংবাদিক বদিউল আলম। এতে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আকতারুল আলম, ঈদগাহ রশিদ আহমেদ কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ওমর ফারুক, অধ্যক্ষ এ কে এম ফজলুল হক, পিএমখালীর সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ, জেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি মোস্তফা কামাল ও সাধারণ সম্পাদক শাহাব উদ্দিন।
এছাড়াও বক্তব্য দেন কক্সবাজার পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক হামিদ উদ্দিন ইউসুফ গুন্নু, জেলা বিএনপির সদস্য শওকত আলম শওকত, ভারুয়াখালী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আমিনুল হক, কাউয়ারখোপ ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মোকতার আহমেদ, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য জানে আলম, অধ্যাপক রহমত উল্লাহসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
এর আগে একই দিন সকালে শহীদ মৌলভী ফরিদ আহমেদের রুহের মাগফিরাত কামনায় খতমে কুরআন ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।