রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ০৭:৫৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
নানা কর্মসূচীর মধ্যদিয়ে রাঙামাটিতে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির ২২ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উৎযাপন খাগড়াছড়িতে বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনের মিলনমেলা, তরুণদের সৃজনশীল ভাবনায় ভবিষ্যতের স্বপ্ন গুম-অপহরণের ‘নাটক’ ও অপপ্রচারের অভিযোগে কাচালং সরকারি কলেজ ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল সেনাবাহিনীর উদ্যোগে দুর্গম এলাকায় বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা এবং ঔষধ বিতরণ বান্দরবান এলজিইডির বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন বাঘাইছড়িতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন লামায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন “সবুজে গড়বো আগামীর বাংলাদেশ” খাগড়াছড়িতে শুরু হলো বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি থানচিতে উদ্যোক্তা মেলা ও পিঠা উৎসব প্রধানমন্ত্রীর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি; পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন খাগড়াছড়ি সদর এলজিইডি’র আয়োজনে বৃক্ষরোপন কর্মসূচি পালন সীমান্তে অপরাধ ও সন্ত্রাস দমনে পানছড়ি কেষ্টমনি পাড়ায় বিজিবি’র নতুন ক্যাম্প স্থাপন প্রধানমন্ত্রীকে দেখার জন্য ঈদগাঁওবাসী ছিলেন অধির অপেক্ষায় বান্দরবানের ক্রীড়াঙ্গনে নারী ক্রীড়াবিদদের মর্যাদা, নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিতকরণে এক কর্মশালা রাজস্থলীতে ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন নওমুসলিমদের নির্যাতনের অভিযোগে রাজস্থলীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ

লামায় তামাকের দখলে কৃষিজমি ও নদীচর, খাদ্য নিরাপত্তা ও পরিবেশ হুমকিতে

মো. ইসমাইলুল করিম, লামা প্রতিনিধি
????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????

পার্বত্য জেলা বান্দরবানের লামা উপজেলায় ভয়াবহভাবে বিস্তৃত হচ্ছে তামাক চাষ। উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা জুড়ে ফসলি জমি, বসতবাড়ির আঙিনা, স্কুল মাঠ এমনকি মাতামুহুরী নদীর চর ও দুই তীর এখন তামাকের রাজত্বে পরিণত হয়েছে। সরকারি নিষেধাজ্ঞা, প্রশাসনিক প্রচারণা ও সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে বহুজাতিক ও দেশীয় তামাক কোম্পানির প্রণোদনায় কৃষকরা ঝুঁকছেন এই ক্ষতিকর ফসলে। এতে জমির উর্বরতা ধ্বংস, কৃষকের স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য নিরাপত্তা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন চিকিৎসক ও পরিবেশবিদরা।

সরেজমিন ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিএটিবি, জাপান টোব্যাকো, আবুল খায়ের, আকিজসহ অন্তত ৮টি তামাক কোম্পানি চলতি মৌসুমে লামা উপজেলায় প্রায় **৭ হাজার একর** জমিতে তামাক চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এসব কোম্পানি তাদের রেজিস্ট্রেশনভুক্ত প্রায় **৩ হাজার কৃষককে** আগাম ঋণ, বীজ, সার, পলিথিন ও কীটনাশক সরবরাহ করেছে। গত নভেম্বর থেকেই বীজতলা তৈরি শুরু হয় এবং বর্তমানে মাঠজুড়ে তামাকের চারা রোপণ চলছে।

যদিও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবে উপজেলায় তামাক চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে **১ হাজার ৫৭৭ একর**, স্থানীয়দের দাবি—এই পরিসংখ্যান বাস্তবতার তুলনায় কয়েকগুণ কম। নির্ভরযোগ্য সূত্র বলছে, কেবল আবুল খায়ের টোব্যাকোই অন্তত ১ হাজার ১৭০ একর জমিতে তামাক চাষে যুক্ত করেছে ৫৭০ কৃষককে। বিএটিবি প্রায় ২ হাজার একর, জাপান টোব্যাকো ১ হাজার ৭০০ একরসহ অন্যান্য কোম্পানিও শত শত একর জমিতে চাষের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। এর বাইরে রেজিস্ট্রেশনবহির্ভূত আরও তিন শতাধিক কৃষক তামাক চাষে যুক্ত বলে ধারণা করা হচ্ছে।

লামামুখ, রাজবাড়ি, মেরাখোলা, মেওলারচর, কলিঙ্গাবিল, হরিণঝিরি ও মাতামুহুরী নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট ঘুরে দেখা গেছে—বাড়ির উঠান থেকে নদীর চর পর্যন্ত সর্বত্র তামাকের চারা। নদী, খাল ও ঝিরির ৫০ ফুটের মধ্যে তামাক চাষ না করার নির্দেশনা থাকলেও তা মানছেন না চাষিরা। এরই মধ্যে সদর ইউনিয়নের মেরাখোলা এলাকায় নদীর চরে অবৈধভাবে তামাক চাষের দায়ে উপজেলা প্রশাসন ফসল ধ্বংসের অভিযান চালিয়েছে।

তামাক চাষের আগ্রাসনে বিপাকে পড়েছেন সবজি ও খাদ্যশস্য চাষিরা। তামাক চাষিরা চড়া দামে আগাম জমি লাগিয়ত নেওয়ায় সবজি চাষের জন্য জমি পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন স্থানীয় কৃষকরা। এতে এলাকায় সবজি উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

লামা পরিবেশ রক্ষা পরিষদের সভাপতি ফরিদ উদ্দিন বলেন, “তামাক চাষ জমির উর্বরতা নষ্ট করে এবং পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতি করে। এটি বন্ধ না হলে ভবিষ্যতে খাদ্য সংকট অনিবার্য।”
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. গোলাম মোস্তফা নাদিম জানান, “তামাক চাষে যুক্ত কৃষকদের শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি ও ক্যান্সারসহ মারাত্মক রোগের ঝুঁকি বাড়ছে।”

লামা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (অ:দা:) মো. সোহেল রানা বলেন, “তামাক চাষ বন্ধে সুনির্দিষ্ট আইন না থাকায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন। তবে আমরা কৃষকদের বিকল্প ফসল চাষে উৎসাহ ও প্রণোদনা দিচ্ছি।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মঈন উদ্দিন বলেন, “নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদী ও খালের আশপাশে তামাক চাষ করলে অভিযান চালিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

একদিকে লাভের লোভ, অন্যদিকে আইনগত শূন্যতা—এই দুইয়ের ফাঁক গলে লামায় বাড়ছে তামাক চাষের বিস্তার। এখনই কার্যকর নীতিমালা ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে পাহাড়ি এই জনপদের কৃষি, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য এক ভয়াবহ সংকটের দিকে এগিয়ে যাবে—এমন সতর্কবার্তাই দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *