বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
মহালছড়ি জোনের উদ্যোগে তৃতীয় ধাপে ২০ রোগীর সফল ছানি অপারেশন, নিরাপদে বাড়ি ফিরলেন সবাই মাটিরাঙ্গা সীমান্তে বিজিবি-চোরাকারবারীদের মধ্যে গোলাগুলি, ৪ পিস্তল ও গুলি উদ্ধার বাঘাইছড়িতে টিলার জমি নিয়ে পাহাড়ি-বাঙালি সংঘর্ষ, আহত ২ ২০ বছর পলাতক থাকার পর হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি গ্রেফতার বিলাইছড়িতে বন্যাদুর্গত ১০৪ পরিবারকে বৌদ্ধ ভিক্ষু সংঘের নগদ সহায়তা কক্সবাজারে ‘জুলাই রেভ্যুলুশনারি এ্যালায়েন্স’-এর জেলা কমিটি ঘোষণা মাটিরাঙ্গায় ১০ লাখ টাকার ভারতীয় জুসের চালান জব্দ করল সেনাবাহিনী আলীকদম সদর ইউপির প্রশাসনিক ও আর্থিক দায়িত্ব পেলেন কৃষি কর্মকর্তা সোহেল রানা সাঙ্গু নদীতে নৌকাডুবি: নিখোঁজ পর্যটকের মরদেহ দুই দিন পর উদ্ধার গুজব-অপপ্রচার ঠেকাতে সতর্ক থাকার আহ্বান মাটিরাঙ্গা জোন অধিনায়কের রাজস্থলীতে হেডম্যান-কারবারি ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সেনাবাহিনীর মতবিনিময় পাহাড়ি ঢলে নিহত দুই পরিবারের পাশে উপজেলা প্রশাসন, দেওয়া হলো ৫০ হাজার টাকা সহায়তা লংগদুতে ৯ হাজার গাছের চারা বিতরণ, সেনাবাহিনীর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি রাঙ্গুনিয়ায় ৭ বছরের নাতনিকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে নানা গ্রেপ্তার ঈদগাঁওয়ে স্মার্ট কৃষি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম চলছে খাগড়াছড়ি থানার নতুন ভবন নির্মাণকাজের উদ্বোধন

২৩ বছর ধরে পরিত্যক্ত দীঘিনালা সরকারি ডিগ্রি কলেজের ছাত্রাবাস, নেই সংস্কারের উদ্যোগ

মোঃ হাচান আল মামুন, দীঘিনালা প্রতিনিধি।

খাগড়াছড়ির দীঘিনালা সরকারি ডিগ্রি কলেজের একমাত্র ছাত্রাবাসটি দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে অচল ও পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। শিক্ষার্থীদের আবাসনের উদ্দেশ্যে নির্মিত সরকারি এই স্থাপনাটি বর্তমানে স্থানীয়দের বসতবাড়ি, গোয়ালঘর ও অস্থায়ী দোকানে রূপ নিয়েছে। ছাত্রাবাসের এমন করুণ অবস্থার কথা সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার এক মাস পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো সংস্কার কাজ বা দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

কলেজ সূত্রে জানা গেছে, ২০০২ সালে প্রায় চার একর জমির ওপর কোটি টাকা ব্যয়ে চারটি ভবন নির্মাণ করে ছাত্রাবাসটি চালু করা হয়। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই রক্ষণাবেক্ষণ ও তদারকির অভাবে সেটি বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ দুই যুগের অবহেলায় ভবনগুলো এখন জরাজীর্ণ ও ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ছাত্রাবাসের কক্ষে ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের অন্তত চারটি পরিবার বসবাস করছে। কোথাও রাখা হয়েছে গরু-ছাগল, কোথাও জমে আছে খড়ের স্তূপ। ভবনের একাংশে চলছে অস্থায়ী দোকান। ফলে সরকারি স্থাপনাটির মূল উদ্দেশ্য পুরোপুরি ব্যাহত হচ্ছে।

দীঘিনালা সরকারি ডিগ্রি কলেজে দীঘিনালার পাশাপাশি রাঙ্গামাটির সাজেক, বাঘাইছড়ি ও লংগদুর মতো দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল থেকেও শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করতে আসে। দুর্গম সড়ক, যানবাহন সংকট ও দীর্ঘ যাত্রাপথের কারণে ছাত্রাবাস তাদের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় হলেও সেটি বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নিয়মিত তদারকি ও প্রশাসনিক উদ্যোগের অভাবে ছাত্রাবাসটি দ্রুতই অকেজো হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে দখলদারত্ব বাড়তে থাকে, যা বর্তমানে স্থায়ী রূপ নিয়েছে।

এ বিষয়ে দীঘিনালা সরকারি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ তরুণকান্তি চাকমা বলেন, “বিভিন্ন কারণে এতদিন ছাত্রাবাসটি চালু করা সম্ভব হয়নি। তবে বিষয়টি আমরা গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। খুব শিগগিরই শিক্ষার্থীদের জন্য ছাত্রাবাসটি পুনরায় চালুর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ তানজিম পারভেজ বলেন, “আমি সদ্য দীঘিনালায় যোগদান করেছি। ছাত্রাবাস বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে—কীভাবে এটি পুনরায় শিক্ষার্থীদের জন্য চালু করা যায়, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন। ডিসেম্বরের ১ তারিখে ছাত্রাবাসের দুরবস্থা নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলেও এক মাস পেরিয়ে গেলেও কোনো সংস্কার কাজ শুরু হয়নি। কলেজ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।

এদিকে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়ায় শিগগিরই নতুন শিক্ষার্থীদের আগমন ঘটবে দীঘিনালা সরকারি ডিগ্রি কলেজে। কিন্তু আবাসনের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, “হোস্টেল আছে, কিন্তু থাকার ব্যবস্থা নেই”— এই বাস্তবতা অত্যন্ত দুঃখজনক ও হতাশাজনক।

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জোর দাবি, দীঘিনালা সরকারি ডিগ্রি কলেজের একমাত্র ছাত্রাবাসটি দ্রুত দখলমুক্ত করে সংস্কার ও পুনরায় চালু করা হোক। প্রশাসন ও কলেজ কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগই পারে ২৩ বছরের দীর্ঘ এই সংকটের অবসান ঘটাতে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *