সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:০৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
বাঘাইছড়িতে পাহাড়ধসে বসতঘর বিধ্বস্ত, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে বিএনপি বরকলে ইউনিয়ন পরিষদের সেবা নিয়ে ভোগান্তি, অনিয়মের অভিযোগ বিলাইছড়িতে সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নজরুল বর্ষের উদ্বোধন পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি ও উন্নয়নে সেনাবাহিনীর বিভিন্ন উদ্যোগ সম্প্রীতির বান্দবান ফুটবল টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন কিংস অব বনরুপা খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ কোনো নির্দিষ্ট দল, গোষ্ঠী বা সম্প্রদায়ের নয়: ম্রাসা থোয়াই মারমা মাটিরাঙ্গায় কৃষক কার্ড কার্যক্রম শুরু, তথ্য সংগ্রহ ১,৩৯৩ কৃষকের বান্দরবানে সীমান্ত সড়কে গাড়ি দুর্ঘটনায় নিহত ১, আহত ৩ কাপ্তাইয়ে পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে দারুস সালাম নূরানী মাদ্রাসা বাঘাইছড়ি ১০৯ ঘনফুট সেগুন কাঠ জব্দ বিলাইছড়িতে আশিকার প্রকল্প অবহিতকরণ সভা সীমান্ত সড়কে দুর্ঘটনায় নিহত ১ আহত তিন শিক্ষার পাশাপাশি ক্রীড়া, সাংস্কৃতি প্রতিভা অন্বেষণ, বিকাশ ও মানোন্নয়নে খাগড়াছড়ি জেলা ছাত্রদলের উদ্যোগে কমিটি গঠন অপুষ্টি প্রতিরোধ ও ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের পুষ্টি উন্নয়নে গুরুত্বারোপ; আশিকার অবহিতকরণ সভা দুর্গম পাহাড়ে বিদ্যুতের আলো ছড়াচ্ছে সোলার, বাড়ছে চাহিদা মহালছড়িতে কর্মক্ষমতা ও জীবিকার সুযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে রিডিং গ্লাস প্রকল্পের উদ্বোধনী সভা

২৪ বছর ধরে বিছানায় বন্দি আয়শা আক্তার, অসহায় মায়ের নীরব সংগ্রাম

Reporter Name

মোঃ হাচান আল মামুন, দীঘিনালা  প্রতিনিধি

খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার ৩নং কবাখালী ইউনিয়নের উত্তর মিলনপুর এলাকার এক করুণ মানবিক চিত্র—জন্মগত প্রতিবন্ধিতার কারণে টানা ২৪ বছর ধরে বিছানায় শয্যাশায়ী জীবন কাটাচ্ছেন আয়শা আক্তার (২৪)। জন্ম থেকেই তার মাথার আকার স্বাভাবিকের তুলনায় বড় হওয়ায় তিনি কখনোই দাঁড়াতে বা স্বাভাবিকভাবে বসতে পারেননি। শৈশব থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত তার পুরো জীবন কেটেছে বিছানার চার দেয়ালের মধ্যে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আয়শার বাবা তার জন্মের মাত্র আট বছর পর মারা যান। সেই সময় থেকেই পরিবারের পুরো দায়িত্ব এসে পড়ে ৬৫ বছর বয়সী মা আহের বানুর ওপর। স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে তিনি একাই সংসার চালানোর পাশাপাশি মেয়ের সার্বক্ষণিক সেবা ও পরিচর্যা করে আসছেন।

বর্তমানে আহেরা বানু চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বয়স ও শারীরিক দুর্বলতা সত্ত্বেও তিনি মেয়ের দেখাশোনা, ওষুধপত্র ও চিকিৎসার খরচ বহন করতে গিয়ে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে পরিবারটি চরম দারিদ্র্য ও অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে।

আহের বানু বলেন- আমার স্বামী নেই, মেয়েটা জন্ম থেকেই এভাবে পড়ে আছে। ওর চিকিৎসা, ওষুধ আর খরচ চালানো খুব কষ্ট হচ্ছে। কেউ আমাদের পাশে দাঁড়ায় না।” আয়শা আক্তারের প্রতিদিনের জীবন সম্পূর্ণভাবে বিছানাকেন্দ্রিক। খাওয়া-দাওয়া, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, এমনকি প্রাথমিক পরিচর্যার কাজগুলোও মায়ের সাহায্য ছাড়া সম্ভব নয়। দিন দিন তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে অতি কষ্টে দিন কাটালেও এখন পর্যন্ত স্থায়ী কোনো সরকারি বা বেসরকারি সহায়তা পায়নি।

এ বিষয়ে কবাখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নলেজ চাকমা বলেন,“বিষয়টি অত্যন্ত মানবিক ও দুঃখজনক। আমরা পরিবারটির খোঁজ নিয়েছি এবং সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দ্রুত সরকারি সহায়তা প্রদানের চেষ্টা করা হবে।”

দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিল পারভেজ বলেন,“আয়শা আক্তারের বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। তাকে প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা, ভাতা ও চিকিৎসা সহায়তার আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে।”

দীর্ঘ ২৪ বছরের এই নীরব কষ্ট ও সংগ্রামের গল্প স্থানীয়দের হৃদয় ছুঁয়েছে। এলাকাবাসী দ্রুত সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে স্থায়ী সহায়তা প্রদানের জোর দাবি জানিয়েছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *