
এম বাবুল, কাপ্তাই প্রতিনিধি।।
দীর্ঘ ৩ মাস ১৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে আবারও রাঙামাটির কাপ্তাই লেকে মাছ ধরা শুরু হয়েছে। সোমবার মধ্যরাত থেকে লেকে মাছ আহরণের অনুমতি কার্যকর হওয়ার পর মঙ্গলবার সকাল থেকেই কাপ্তাইয়ের জেটিঘাটে অবস্থিত মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে ফিরেছে প্রাণচাঞ্চল্য। দীর্ঘ বিরতির পর জেলেদের মাছভর্তি বোট ঘাটে ভিড়তে শুরু করায় ব্যস্ত হয়ে ওঠেন জেলে, মৎস্য ব্যবসায়ী ও ঘাট শ্রমিকরা।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৬টা থেকে কাপ্তাই লেকের বাঘাইছড়ি, লংগদু, বরকল, বিলাইছড়িসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে ইঞ্জিনচালিত বোটে করে জেলেরা নানা প্রজাতির মাছ নিয়ে মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে আসতে থাকেন। সারিবদ্ধভাবে ঘাটে ভিড়তে থাকা বোটগুলোতে চাপিলা, কাচকি, টেংরা, আইড়, বাইম, বাচা, কালিগুনিয়া, পাবদাসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ দেখা যায়।
মৎস্য ব্যবসায়ীরা নির্ধারিত শুল্ক পরিশোধের পর মাছগুলো বরফে সংরক্ষণ করে ট্রাকযোগে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। ফলে দীর্ঘদিন পর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রজুড়ে আবারও কর্মব্যস্ততা ফিরে এসেছে।
মৎস্য ব্যবসায়ী জিয়াউল হক জিয়া, সাজ্জাদ, মো. মাইনুদ্দীন এবং ঘাট শ্রমিক আজগর আলী জানান, নিষেধাজ্ঞা শেষে প্রথম দিন থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে জেলেরা মাছ নিয়ে ঘাটে আসতে শুরু করেছেন। এদিন কাচকি, চাপিলা, টেংরা, বাচা, আইড়, কালিগুনিয়া, পাবদা ও বাইম মাছ তুলনামূলক বেশি ধরা পড়েছে। তাদের ভাষ্য, লেকের পানি আরও কমে এলে বড় আকারের মাছের পরিমাণও বাড়বে।
তারা জানান, কাপ্তাই লেক থেকে আহরিত মাছ চট্টগ্রাম, ঢাকা এবং উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে।
কাপ্তাই মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি বেলাল হোসেন, সহসভাপতি আলতাফ মিয়া, সাধারণ সম্পাদক নবী হোসেন এবং অর্থ সম্পাদক মো. শাহাবুদ্দীন বলেন, নিষেধাজ্ঞা শেষে সোমবার মধ্যরাত থেকে কাপ্তাই লেকে মাছ ধরা শুরু হয়েছে। রাঙামাটির মাইনি, শুভলং, বিলাইছড়ির গাছকাটা ছড়া, রাইংখং খালসহ লেকের বিভিন্ন এলাকা থেকে আহরিত মাছ কাপ্তাই মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে আনা হচ্ছে। শুল্ক পরিশোধের পর এসব মাছ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হচ্ছে। তবে অবতরণ কেন্দ্রসংলগ্ন লেকে কচুরিপানা জমে থাকায় বোট ভেড়াতে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে বলে তারা জানান।
কাপ্তাই মৎস্য উন্নয়ন উপকেন্দ্রের প্রধান জসিম উদ্দিন জানান, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৬টা থেকে কাপ্তাই মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে মাছ অবতরণ শুরু হয়। বেলা ১টা পর্যন্ত কেন্দ্রটিতে ২৮ হাজার ৮৬৬ কেজি বিভিন্ন প্রজাতির মাছ অবতরণ হয়েছে। এসব মাছের বিপরীতে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ৬ লাখ ২০ হাজার টাকা রাজস্ব আদায় করা হয়েছে।