মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৫৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
খাগড়াছড়িতে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন নানিয়ারচরে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত রাজস্থলীতে নানা আয়োজনে বিএনপির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন  রাজস্থলীতে যুব উন্নয়নের দুই মাসব্যাপী ভ্রাম্যমাণ কম্পিউটার প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত  উখিয়ায় পরিত্যক্ত বস্তা থেকে দুই লাখ ইয়াবা উদ্ধার লামা-আলীকদমে সংরক্ষিত বন দখলের অভিযোগ, সক্রিয় ভূ-দখলদার চক্র রামু কেন্দ্রীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অভিভাবক সমাবেশ ও বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা উপজেলা হাসপাতালে প্রতিনিয়ত বাড়ছে রোগী,কমছে বরাদ্দ ও জনবল খাগড়াছড়ি সীমান্তে ১৯ লাখ টাকার ভারতীয় শাড়ি জব্দ করেছে বিজিবি রাঙ্গামাটি কোতয়ালী থানার বিশেষ অভিযানে ১১ গ্রেফতার ঢাকায় বসে শুধু নির্দেশনা দেওয়ার পক্ষে আমি নই; মাঠে ফিজিক্যালি প্রেজেন্ট থেকে পরিস্থিতি দেখে ব্যবস্থা নিতে চাই: পার্বত্য মন্ত্রী সাচিং প্রু রাজস্থলীতে নজরুল বর্ষের সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন দীঘিনালায় নজরুল বর্ষের উদ্বোধন, কবিতা-গানে মুখর অডিটোরিয়াম অনুপস্থিত থেকেও হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর: নারায়ণগঞ্জ ভূমি অফিসের এ অনিয়মে ভূমি প্রতিমন্ত্রীর অসন্তোষ প্রকাশ বাঘাইছড়িতে পাহাড়ধসে বসতঘর বিধ্বস্ত, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে বিএনপি বরকলে ইউনিয়ন পরিষদের সেবা নিয়ে ভোগান্তি, অনিয়মের অভিযোগ

নিজেই বিধ্বস্ত ২০ হাজার মানুষের চিকিৎসা সেবা কেন্দ্রটি

Reporter Name

মো.ইসমাইলুল করিম, লামা প্রতিনিধি:

পার্বত্য জেলার বান্দরবানের লামায় গজালিয়া ইউনিয়নে এমন হাসপাতালও দেশে আছে তাহলে? উন্নয়নে দেশে সয়লাব অবস্থা। স্বাস্থ্যসেবার হাসপাতালের অবস্থাও বেশ উন্নত হচ্ছে দেশে। কিন্তু এই বিধ্বস্ত টিনের ঘরটি দেখে কী বোঝা যায়? এটি পরিত্যক্ত ঘর। মাঠে গরু ঘাস খাচ্ছে দেখে মনে হতে পারে এটি গোয়াল ঘর। কিন্তু বাস্তবে এটি গোয়াল ঘর নয়। মানে গরুর নিবাসস্থল নয়। এটি ছিল মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র। শুনতে বিস্ময়কর মনে হলেও বাস্তবেই নাকি হাসপাতাল ছিল।

ছিল বলতে হচ্ছে এই কারণেই- এটি নাকি বন্ধ হয়েছে প্রায় ২৫ বছর আগে। এরপর স্বাস্থ্য বিভাগ স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি সচল করতে যে উদ্যোগ নিয়েছে বলে দাবি করছে, তা বাস্তবরূপ পায়নি দীর্ঘ ২৫ বছরেও। এই ২৫ বছর ধরে স্বাস্থ্যকেন্দ্র বন্ধই থাকে, তাহলে এটি স্থাপিত হয়েছে কতো বছর আগে? সেই জন্মসালটি অবশ্যই জানা গেল না। বেড়া ও টিনের তৈরি ঘরটি বয়সের ভারে যেভাবে ন্যূয়ে পড়েছে, ঠিক সেভাবেই ‘বিধ্বস্ত’ এখানে ২০ হাজার মানুষের ‘স্বাস্থ্যসেবা’ও। অথচ, দেশে কতো উন্নয়নের গল্প শুনেন এই ইউনিয়নের বাসিন্দারা। কিন্তু তাদের স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র দেখার পর ইউনিয়নবাসী মনে মনে উপহাস করেন এবং ভাবেন -সবই যেন অনর্থক গালগল্প। প্রকৃত উন্নয়নচিত্র বুঝি ওই বিধ্বস্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মতোই। বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকালে ছবিতে বর্ণিত বিধ্বস্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্রের অবস্থান লামা উপজেলার ১নং গজালিয়া ইউনিয়নে। ১৯৮৩ সালের আগে লামা উপজেলা যখন মহকুমা ছিল, তখন গজালিয়া ইউনিয়নটি থানা ছিল। পরবর্তীতে লামা মহকুমা উপজেলায় রূপান্তর হয় মূলত গজালিয়া ইউনিয়ন থেকেই।তখন গুরুত্ব, জনসংখ্যা ও আয়তন বিবেচনায় গজালিয়াকে লামা উপজেলার ১নং ইউনিয়ন করা হয়। অবশ্য, সরই ও আজিজনগর নামে স্বতন্ত্র ২টি ইউনিয়ন সৃজন করা হয়েছে এই গজালিয়াকে ভেঙেই।

সেই বনেদি গজালিয়া ইউনিয়নে এখন প্রায় ২০ হাজার মানুষের বাস। সেই ইউনিয়নবাসীর জন্য অতীতে যে স্বাস্থ্যকেন্দ্র ছিল এটি এখনো নাকি উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কর্তার খাতায় আছে। আর মাঠের চিত্র কী? সেটা পাঠক মাত্রই বুঝবেন। ইউনিয়নবাসীর দুঃখগাঁথা এমন -স্বাস্থ্যসেবা সাধারণ মানুষের রাষ্ট্র থেকে পাওয়া অন্যতম মৌলিক অধিকার। কিন্তু স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত এই ইউনিয়নের মানুষ। ইউনিয়ন সদরে বাজারের পাশে সরকারি খাস জমিতে একসময় গজালিয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য উপকেন্দ্রটি থাকলেও গত ২৫ বছরের অধিক সময় ধরে অবহেলা, অযত্ন এবং সংস্কারের অভাবে ঘরটি বিধ্বস্ত হয়েছে। এখানে ডাক্তার কিংবা স্বাস্থ্য কর্মীর পা পড়ে না। তাই দিনে দিনে এটি হয়ে উঠেছে গো-চারণ ভূমি।

২৫ বছরের বেশি সময় ধরে স্বাস্থ্য কর্মীর পা পড়েনি যে হাসপাতালে। মানুষের দুঃখগাঁথা শুনবে কে?গজালিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা আকাশ হোসাইনের আক্ষেপ, ‘গজালিয়া ইউনিয়নের এলাকা কর্তন করে জন্ম হয়েছে সরই ইউনিয়নের। সেই সরই-এ ১০ শয্যার মা ও শিশু হাসপাতাল আছে। কিন্তু গজালিয়ায় নেই। এই বঞ্চনার গল্প গজালিয়া ইউনিয়নের বয়সের মতোই লম্বা। একই ইউনিয়নের গজালিয়া বাজারপাড়ার বাসিন্দা মো. জহুর আলীর কণ্ঠে অবশ্য আপেক্ষ কম। তার চেয়ে বেশি বাস্তবতার কথা। বলেন, ‘গজালিয়া ইউনিয়নে সুচিকিৎসার ব্যবস্থা নেই। দুরবর্তী লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাওয়ার গাড়ি যোগাযোগ বেশ কঠিন। তাই ইউনিয়নের বাসিন্দাদের নিদারুণ দুর্ভোগ পোহাতে হয়। যা অন্যরা অনুধাবন করতে পারবেন না।

মানিকজন পাড়ার বাসিন্দা সজারাম ত্রিপুরা বলেন, ‘এত উন্নয়ন হয়। কিন্তু গজালিয়া হাসপাতালের উন্নয়ন হয় না, কারণ কি?’ আল আমিন হোসেন নামের আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘এত বড় ইউনিয়ন, কিন্তু একটা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র নেই-খুবই দুঃখজনক। গজালিয়া বাজার পাড়ার আরেক বাসিন্দা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব আবুল কালাম বলেন, ‘গজালিয়া স্বাস্থ্য উপকেন্দ্রটি ২৫ বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ। স্বাস্থ্য বিভাগ কেন বিষয়টি ব্যবস্থা নিচ্ছে না সেই বিষয়ে কেউ কিছু জানে না। তবে, ‘আমরা বান্দরবান জেলা সিভিল সার্জন, স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আমরা একটি হাসপাতাল চাই। সমাজসেবক মুহাম্মদ মুসা বলেন, গজালিয়া ইউনিয়নে হাসপাতাল নির্মাণের দাবি করে গত বছরের ৩০ জুন বান্দরবান জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের বরাবর আবেদন করেছিলাম। ওই আবেদনে সুপারিশ করেছিলেন, বান্দরবান জেলা পরিষদের দুই সদস্য এডভোকেট মুহাম্মদ আবুল কালাম ও খুরশিদা ইসহাক। আবেদনটি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যাপক থানজামা লুসাই সিভিল সার্জনের কাছে পাঠিয়ে দেন। এরপর কী হলো? তার কোনো ফল এখনো দেখছি না। ২০ হাজার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে কারো কোন মাথা ব্যথা নেই।

বাস্তবতা জানা গেল, আশা পাওয়া গেল এই হাসপাতালের তথ্য নিতে গিয়ে জানা গেল আরো বিষ্ময়কর তথ্য। এই নামে একটি হাসপাতাল নাকি চালু আছে। সেটি ইউনিয়ন এলাকায় নয়। পৌরসভায়, বিষয়টি স্পষ্ট হয় লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. গোলাম মোস্তফার কথায়। তিনি জানালেন, ‘গজালিয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র রয়েছে। সেটির অবস্থান লামা পৌরসভার ১নং ওয়ার্ড এলাকায়। এই কারণে গজালিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দারা সেবা পাচ্ছেন না।’ তিনি দাবি করেন, ‘আমরা মাঝেমধ্যে মোবাইল টিম করে গজালিয়া বাজারে সেবা দেওয়ার চেষ্টা করি। তবে তা অপ্রতুল। ইউনিয়ন সদরে হাসপাতাল নির্মাণ জরুরি।’

এই স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কথায় স্পষ্ট হলো, গজালিয়া স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি ইউনিয়ন এলাকায় নেই। এটি পৌর এলাকায় স্থানান্তর করে নেওয়া হয়েছে। মূলত এই ধরনের কৌশল করা হয়, তখনই যখন ডাক্তার কিংবা স্বাস্থ্যকর্মীরা দূরবর্তী এলাকায় গিয়ে সেবা দেওয়ার পরিবর্তে  উপজেলা সদরে থাকতে চান। লামা সদর এবং পৌরসভা যে অভিন্ন এলাকা।

বাস্তবতা কতোদূর? এই কৌশলগত ফাঁদে পড়েই তথা স্বাস্থ্যকর্মীদের সুবিধা বিবেচনায় বঞ্চিত করা হচ্ছে গজালিয়া ইউনিয়নের মানুষদের। অথচ, পৌর এলাকায় অবস্থিত স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির নাম গজালিয়া ইউনিয়নের নামে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জানালেন, গজালিয়ায় স্বাস্থ্য কেন্দ্র দরকার। যেটি ছিল, সেটি কেন পৌর এলাকায় স্থানান্তর করে নেওয়া হয়েছে সেই বিষয়টি স্পষ্ট করলেন না। আর লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মঈন উদ্দিন বলেন, দ্রুত বিষয়টি স্বাস্থ্য বিভাগের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানাবেন এবং গজালিয়া ইউনিয়নে স্বাস্থ্যসেবা বৃদ্ধির বিষয়ে পদেক্ষপ নেওয়া হবে।এতোদিন কেন এমন উদ্যোগ নেওয়া হলো না কিংবা গজালিয়া স্বাস্থ্য কেন্দ্র কেন পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডে চলে গেল? সেই বিষয়ে কর্তাদের কাছ কোনো তথ্যই পাওয়া গেল না। সেই তথ্য অনাগত ভবিষ্যতে আদৌ পাওয়া যাবে কি না? কিংবা গজালিয়া ইউনিয়ন একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র পাবে কি না? সেটাই দেখতে কতোকাল অপেক্ষা করতে হবে। সেটা এখনই বলা মুশকিল।ল হয়ে পড়ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *