মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৫১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
খাগড়াছড়িতে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন নানিয়ারচরে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত রাজস্থলীতে নানা আয়োজনে বিএনপির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন  রাজস্থলীতে যুব উন্নয়নের দুই মাসব্যাপী ভ্রাম্যমাণ কম্পিউটার প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত  উখিয়ায় পরিত্যক্ত বস্তা থেকে দুই লাখ ইয়াবা উদ্ধার লামা-আলীকদমে সংরক্ষিত বন দখলের অভিযোগ, সক্রিয় ভূ-দখলদার চক্র রামু কেন্দ্রীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অভিভাবক সমাবেশ ও বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা উপজেলা হাসপাতালে প্রতিনিয়ত বাড়ছে রোগী,কমছে বরাদ্দ ও জনবল খাগড়াছড়ি সীমান্তে ১৯ লাখ টাকার ভারতীয় শাড়ি জব্দ করেছে বিজিবি রাঙ্গামাটি কোতয়ালী থানার বিশেষ অভিযানে ১১ গ্রেফতার ঢাকায় বসে শুধু নির্দেশনা দেওয়ার পক্ষে আমি নই; মাঠে ফিজিক্যালি প্রেজেন্ট থেকে পরিস্থিতি দেখে ব্যবস্থা নিতে চাই: পার্বত্য মন্ত্রী সাচিং প্রু রাজস্থলীতে নজরুল বর্ষের সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন দীঘিনালায় নজরুল বর্ষের উদ্বোধন, কবিতা-গানে মুখর অডিটোরিয়াম অনুপস্থিত থেকেও হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর: নারায়ণগঞ্জ ভূমি অফিসের এ অনিয়মে ভূমি প্রতিমন্ত্রীর অসন্তোষ প্রকাশ বাঘাইছড়িতে পাহাড়ধসে বসতঘর বিধ্বস্ত, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে বিএনপি বরকলে ইউনিয়ন পরিষদের সেবা নিয়ে ভোগান্তি, অনিয়মের অভিযোগ

পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী কাবাডি ও বলি খেলা অনুষ্ঠিত

Reporter Name

মো. ইসমাইলুল করিম, লামা প্রতিনিধি:

পার্বত্য জেলার বান্দরবানের লামা উপজেলায় গ্রাম বাংলার হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী বলি খেলা ও কাবাডি প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে বরণ করা হয়েছে  ‘বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩’।  ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’ এই বিশেষ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বর্ণিল আয়োজনে মুখরিত ছিল পুরো উপজেলা। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকালে লামা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজন করা হয় এ খেলার। এই বলি খেলায় কক্সবাজারের চকরিয়ার ডুলহাজারা ইউনিয়নের প্রখ্যাত বলি রমিজ উদ্দিন চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার সৃষ্টি করে।

উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ বলি খেলার চূড়ান্ত লড়াই ছিল দেখার মতো। দুই শক্তিশালী বলির শারীরিক কসরত আর কৌশলী লড়াই উপস্থিত হাজারো দর্শককে মুগ্ধ করে। চূড়ান্ত পর্বে চকরিয়া উপজেলার ডুলহাজারা ইউনিয়নের রমিজ উদ্দিন বলি তার অসাধারণ নৈপুণ্য ও শক্তির পরিচয় দিয়ে শিরোপা জয় করেন। অন্যদিকে, শ্বাসরুদ্ধকর লড়াই শেষে রানার-আপ হওয়ার গৌরব অর্জন করেন চকরিয়া পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. বাদশাহ বলি। বিজয়ীদের লড়াই চলাকালীন দর্শকদের করতালি ও হর্ষধ্বনিতে পুরো স্কুল মাঠ এক আনন্দপুরীতে পরিণত হয়।

বলি খেলার পাশাপাশি এদিন সকালে একই মাঠে ঐতিহ্যবাহী কাবাডি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। গ্রামীণ এই খেলার চূড়ান্ত পর্বে সদর ইউনিয়নের মেরাখোলা একাদশ তাদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। বীরত্বপূর্ণ লড়াই শেষে রানার-আপ হওয়ার সন্তুষ্টি নিয়ে মাঠ ছাড়ে পৌরসভার নোয়াপাড়া একাদশ। গ্রাম বাংলার হারিয়ে যাওয়া এসব খেলাধুলা পুনরুজ্জীবিত করার এই প্রয়াসকে সাধুবাদ জানিয়েছেন পাহাড়ের সাধারণ মানুষ ও ক্রীড়াপ্রেমীরা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে খেলা উপভোগ করেন এবং বিজয়ীদের হাতে ট্রফি ও প্রাইজমানি তুলে দেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মঈন উদ্দিন। এতে থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ শাহজাহান কামাল, সহকারী তথ্য অফিসার রাশেদুল ইসলাম রাসেল ও প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ কামরুজ্জামান সহ প্রমূখ।এছাড়াও আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন, বান্দরবান জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও লামা পৌরসভার সাবেক মেয়র আমির হোসেন আমু, উপজেলা মহিলা দলের সভানেত্রী সাহারা বান তহুরা এবং উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব চৌধুরী মোহাম্মদ সুজনসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ।

খেলা শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও মো. মঈন উদ্দিন বলেন, “বলি খেলা ও কাবাডি আমাদের সংস্কৃতির শেকড়। যে জাতি তার সংস্কৃতির শেকড় ভুলে যায়, সে জাতি কখনো উন্নত মস্তকে এগোতে পারে না। আগামী প্রজন্মের সামনে আমাদের দেশীয় ঐতিহ্য ও বীরত্বের ইতিহাস তুলে ধরাই এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।” তিনি আরও যোগ করেন, এ ধরণের আয়োজন কেবল বিনোদন নয়, বরং তা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে।পহেলা বৈশাখের এই আনন্দঘন আয়োজনকে কেন্দ্র করে লামার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছিল। অনুষ্ঠিত এই বলি খেলা ও কাবাডি প্রতিযোগিতা প্রমাণ করেছে যে, আধুনিকতার ভিড়েও গ্রামীণ লোকজ সংস্কৃতির আবেদন আজও অমলিন। তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও বিপথগামিতা থেকে দূরে রাখতে এ ধরণের ক্রীড়া উৎসব নিয়মিত আয়োজন করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *