বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ০১:০০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
প্রত্যেক অপরাধীর বিচার এ দেশেই হবে, সে যত শক্তিশালীই হোক না কেন”—চট্টগ্রামে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল জনআকাঙ্ক্ষা ও জুলাই সনদের আলোকে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ- প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল থানচিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা রাঙ্গুনিয়ায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত: রাজানগর ও ইসলামপুর বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের বর্ণাঢ্য র‌্যালী শহীদ মজিদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলির মধ্যে দিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালন বিলাইছড়িতে গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত ২৪ এর স্পিরিটকে ধারণ করে বৈষম্যহীন দেশ বিনির্মানে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে- জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে বক্তারা খাগড়াছড়ির পানছড়িতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬ উদযাপন ও পুরস্কার বিতরণ কাপ্তাইয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালন জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবসে খাগড়াছড়িতে শ্রদ্ধা, আলোচনা ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা খাগড়াছড়িতে পৌর কিচেন মার্কেট এর উদ্বোধন করলেন ওয়াদুদ ভূঁইয়া এমপি জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে কেন্দ্রীয় জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে এমপি রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরীর শ্রদ্ধাঞ্জলি জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে বাঙ্গালহালিয়া সরকারি কলেজে আলোচনা সভা জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে বান্দরবানে আলোচনা সভা বরকলে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত মহালছড়িতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সম্মাননা উপহার প্রদান

অহেতুক প্রকল্প নয়, পাহাড়িদের জীবনমান উন্নয়নে বাস্তবভিত্তিক কার্যকর উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল’র

Reporter Name

নিজস্ব প্রতিবেদক।।
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের কৃষকদের চাষাবাদ ও দৈনন্দিন জীবনে পানির সংকট একটি বড় সমস্যা। রাঙ্গামাটির দুর্গম এলাকায় ১২০০ ফুট নিচে নেমে স্বাধীনতা-পরবর্তী সময় থেকে নারীদের খাবার পানি সংগ্রহের কষ্টের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, বিষয়টি জানার সাথে সাথেই রাঙ্গামাটির মুখ্য নির্বাহীকে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয় এবং তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে তাদের এ দীর্ঘদিনের কষ্ট লাঘব সম্ভব হয়েছে।

অতীতে প্রকল্প গ্রহণ করেও কাজ না করার সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল বলেন, “অহেতুক অতিরিক্ত প্রকল্প না নিয়ে স্থানীয় জনসাধারণের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ এমন বাস্তবসম্মত প্রকল্প আমাদের গ্রহণ করতে হবে।”
ঢাকার বেইলি রোডে পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স ভবনের সভাকক্ষে আজ পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের চলমান ও ‘সবুজ পাতা’য় অন্তর্ভুক্ত প্রকল্পসমূহের এক পর্যালোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি। এ সভায় সম্মানীত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, এমপি।

পার্বত্য অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নে প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দীন এমপি, বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবনা ও পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। কৃষি ও ফল প্রসেসিংসহ অর্গানিক ফলের বাগান বাড়ানো, কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ এবং ড্রাই ফ্রুটস প্রসেসিং-এর ব্যবস্থা করা, যা স্থানীয় পর্যায়ে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী।

পার্বত্য চট্টগ্রামের ২৬টি উপজেলার পাড়াকেন্দ্রের নারীদের জন্য ওয়াশরুম সুবিধা নিশ্চিত করা এবং পাড়াকেন্দ্রের বিদ্যালয়গুলোতে মেয়েদের জন্য সামাজিক ও শিক্ষামূলক পরিবেশ গড়ে তোলাসহ মডেল পাড়াকেন্দ্র তৈরির মাধ্যমে এসব সমস্যা সমাধানের প্রকল্প গ্রহণ করার উপর গুরুত্বারোপ করেন পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল।

পার্বত্য চট্টগ্রামে আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার বিস্তার প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল বলেন, সেন্ট্রাল স্যাটেলাইটের মাধ্যমে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম ও মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরে রেকর্ড করা ক্লাসের মাধ্যমে দূরবর্তী এলাকায় গণিত, বিজ্ঞান ও ইংরেজি শিক্ষকের অভাব পূরণ করা সম্ভব হবে। এ ধরনের উদ্যোগ সবুজ পাতায় অন্তর্ভুক্ত করার ওপর জোর দেন তিনি।
ক্রীড়া উন্নয়নে জেলাভিত্তিক স্টেডিয়াম নির্মাণের পাশাপাশি খেলোয়াড়দের নিয়মিত প্রশিক্ষণ অব্যাহত রাখতে উপজেলা পর্যায়ে খেলার মাঠ বা স্টেডিয়াম তৈরির পরিকল্পনার কথা সভায় তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী।

সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, এমপি বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে কোল্ড স্টোরেজ, স্বাস্থ্যসেবা, সুপেয় পানি এবং টয়লেট সুবিধা নিশ্চিত করা অতীব জরুরি। তিনি এসডিজি (SDG) লক্ষ্য অর্জনে সংশ্লিষ্টদের বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অন্তত ৫টি নতুন প্রকল্প প্রস্তাব করার অনুরোধ করেন।

রিভিউ সভায় মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন চলমান ও প্রস্তাবিত প্রকল্প নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- তুলা চাষ বৃদ্ধি ও কৃষক দারিদ্র্য বিমোচন প্রকল্প; রাঙ্গামাটিতে সংযোগ সড়কসহ আরসিসি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ; ক্লাইমেট রেসিলিয়েন্ট লাইভলিহুড ইম্প্রুভমেন্ট অ্যান্ড ওয়াটারশেড ম্যানেজমেন্ট (CRLIWM-CHT) প্রকল্প; টেকসই সামাজিক সেবা প্রদান (২য় পর্যায়) প্রকল্প; খাগড়াছড়িতে মহালছড়ি-বাঘমারা ও হেমরঞ্জন পাড়া সড়ক নির্মাণ এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ কমপ্লেক্স নির্মাণ (১ম সংশোধিত) প্রকল্প।

তাছাড়া, সবুজ পাতায় বাছাইকৃত ২১টি প্রকল্পের মধ্য থেকে সরকারের বর্তমান ইশতেহারের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ১৬টি গৃহীত প্রকল্প নিয়ে বিশদ পর্যালোচনা হয়। সংস্থাভিত্তিক এই প্রকল্পগুলোর মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের জন্য ১২টি (প্রাক্কলিত ব্যয় ১,১৫৬ কোটি টাকা), বান্দরবান জেলা পরিষদের জন্য ১টি (ব্যয় ৪২ কোটি টাকা), রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের জন্য ৪টি (ব্যয় ১৯৫ কোটি টাকা) এবং খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের জন্য ৪টি (ব্যয় ১৯৬ কোটি টাকা) বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়েছে।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, অতিরিক্ত সচিব মো. মনিরুল ইসলাম, যুগ্মসচিব মোহাম্মদ মমিনুর রহমান, অতুল সরকার, কাজী তোফায়েল হোসেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান শেখ ছালেহ্ আহাম্মদ, পার্বত্য তিন জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তাবৃন্দ এবং পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ।

সভায় প্রকল্পসমূহের মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর ডিসপ্লে ও বিস্তারিত উপস্থাপনা পরিচালনা করেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মনিরুল ইসলাম।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *