
মোঃ হাচান আল মামুন, দীঘিনালা (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি।
শিক্ষার মানোন্নয়ন, অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের নিয়মিত মাদ্রাসায় উপস্থিতি ও পড়াশোনায় মনোযোগী করার লক্ষ্যে খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় রশিকনগর দাখিল মাদ্রাসায় অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ সমাবেশে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত মাদ্রাসায় উপস্থিতি, যথাসময়ে শ্রেণিকক্ষে অংশগ্রহণ, বাড়িতে নিয়মিত পড়াশোনা এবং শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও জীবনমান উন্নয়নে অভিভাবকদের দায়িত্ব ও করণীয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দীঘিনালা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোস্তাফিজ ভূঁইয়া । মাদ্রাসা ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোঃ হালিম, মাদ্রাসার সুপার আজিজুল হক, সহকারী সুপার আনিসুর রহমান, সহকারী মৌলভী জহিরুল ইসলাম, হাদিস শিক্ষক মহিবুল্লাহসহ মাদ্রাসার অন্যান্য শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় নাগরিকরা উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোস্তাফিজ ভূঁইয়াবলেন, শিক্ষার মানোন্নয়নে শুধু শিক্ষকদের ভূমিকা যথেষ্ট নয়; শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক—তিন পক্ষের সম্মিলিত দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন। একজন শিক্ষক নির্দিষ্ট সময় শিক্ষার্থীদের পাঠদান করেন, কিন্তু দিনের বাকি সময় শিক্ষার্থীরা পরিবারের পরিবেশেই থাকে। তাই সন্তান নিয়মিত পড়াশোনা করছে কি না, সময়মতো মাদ্রাসায় যাচ্ছে কি না এবং পড়াশোনায় কোনো ধরনের সমস্যা হচ্ছে কি না—এসব বিষয়ে অভিভাবকদের নিয়মিত খোঁজখবর রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলের পাশাপাশি তাদের নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধ গড়ে তুলতেও পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে একযোগে কাজ করতে হবে।
মাদ্রাসা ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোঃ হালিম বলেন, রশিকনগর দাখিল মাদ্রাসা দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে শিক্ষাদান করে আসছে। তবে এবারের এসএসসি সমমানের পরীক্ষার ফলাফল আমাদের হতাশ করেছে। আমরা চাই দ্রুত মাদ্রাসাটির শিক্ষার মান ও পুরোনো সুনাম ফিরিয়ে আনতে। এ জন্য শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সম্মিলিতভাবে আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে। তিনি আরও বলেন অভিভাবকদের উচিত সন্তানদেরকে মোবাইল না দেওয়া, দিলেও নির্দিষ্ট সময়ের জন্য, কারণ এই মোবাইল শিক্ষার্থীদেরকে পড়াশোনা থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে।
মাদ্রাসার সুপার আজিজুল হক বলেন, এবারের এসএসসি পরীক্ষায় দীঘিনালা উপজেলার অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফলাফল আশানুরূপ হয়নি। রশিকনগর দাখিল মাদ্রাসাও এর ব্যতিক্রম নয়। শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলের জন্য শিক্ষকরা যথাসাধ্য চেষ্টা করেছেন। তবে প্রত্যাশিত ফলাফল অর্জন সম্ভব হয়নি। ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের আরও কার্যকর ও মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
অভিভাবক জামাল উদ্দিন বলেন, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মান উন্নয়নে শিক্ষকদের পাশাপাশি অভিভাবকদেরও আরও সচেতন হতে হবে। কোনো শিক্ষার্থী নিয়মিত মাদ্রাসায় উপস্থিত না হলে বিষয়টি দ্রুত অভিভাবকদের জানানো প্রয়োজন। এতে অভিভাবকরা সময়মতো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারবেন এবং শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত হওয়ার প্রবণতা কমবে।
সমাবেশে উপস্থিত অভিভাবকরা শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা, বাড়িতে পড়াশোনার প্রতি নজরদারি বৃদ্ধি এবং শিক্ষক–অভিভাবকদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আয়োজকরা জানান, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গড়তে শুধু শ্রেণিকক্ষের পাঠদান নয়, পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের অভিভাবক সমাবেশ ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।