
মো. হাচান আল মামুন, দীঘিনালা প্রতিনিধি।।
মৎস্যসম্পদ উন্নয়নে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে জাতীয় মৎস্য পদক-২০২৬-এর স্বর্ণপদক পেয়েছেন খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার কবাখালী ইউনিয়নের মাছচাষি মো. শাহজাহান। ‘মৎস্যসম্পদ উন্নয়নে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী’ ক্যাটাগরিতে তিনি এ সম্মাননা অর্জন করেন।
রোববার (১৬ আগস্ট) কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার আচমিতা জর্জ ইনস্টিটিউশন মাঠে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬-এর কেন্দ্রীয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শাহজাহানের হাতে স্বর্ণপদক, সনদ ও ৫০ হাজার টাকা নগদ পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
জাতীয় মৎস্য পদক-২০২৬-এর সনদে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালে মো. শাহজাহান ছয়টি পুকুরে মোট ৩ দশমিক ২ হেক্টর জলায়তনে ১২ মেট্রিক টন কার্পজাতীয় মাছের পোনা উৎপাদন করেন। একই সঙ্গে ১ দশমিক ২১ হেক্টর জলাশয়ে তেলাপিয়া ও কার্পের মিশ্রচাষ করে তিনি ২৮ দশমিক ৮ মেট্রিক টন মাছ উৎপাদন করেন।
১৯৮৮ সাল থেকে মাছের পোনা উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত শাহজাহান দীর্ঘদিন ধরে দীঘিনালা ছাড়াও পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলার মৎস্যচাষিদের পোনার চাহিদা পূরণ করে আসছেন। তার অভিজ্ঞতা ও সফলতায় অনুপ্রাণিত হয়ে স্থানীয় অনেক মানুষ মাছচাষে আগ্রহী হয়েছেন। তার পরামর্শ ও সহযোগিতায় এলাকায় নতুন নতুন মাছের খামারও গড়ে উঠেছে।
শাহজাহানের খামারে স্থায়ীভাবে ছয়জন এবং অস্থায়ীভাবে আরও ১২ জনের কর্মসংস্থান হয়েছে। নিরাপদ মাছ উৎপাদনের মাধ্যমে স্থানীয় মানুষের পুষ্টির চাহিদা পূরণ, দারিদ্র্য বিমোচন, আর্থসামাজিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে জাতীয় মৎস্য পদক-২০২৬-এর স্বর্ণপদক দেওয়া হয়েছে।
দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিল পারভেজ বলেন, শাহজাহানের এই অর্জনে তারা গর্বিত ও আনন্দিত। তিনি এলাকায় ফিরে এলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে সংবর্ধনা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তার এ সাফল্য উপজেলার অন্যান্য মৎস্যচাষি ও নতুন উদ্যোক্তাদের মাছচাষে আরও উৎসাহিত করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
স্থানীয় সাংবাদিক হাসান মোর্শেদ রিফাত বলেন, শাহজাহানের জাতীয় পর্যায়ে স্বর্ণপদক অর্জন পুরো দীঘিনালাবাসীর জন্য গর্বের বিষয়। দীর্ঘদিনের পরিশ্রম ও অভিজ্ঞতার স্বীকৃতি হিসেবে পাওয়া এ সম্মাননা এলাকার তরুণ ও মৎস্যচাষিদের আরও উৎসাহিত করবে।
শাহজাহানের স্বর্ণপদক অর্জনের খবরে তার পরিবার, পাড়া-প্রতিবেশী ও স্থানীয় মৎস্যচাষিদের মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, অভিজ্ঞতা ও আধুনিক পদ্ধতিতে মাছচাষের মাধ্যমে শাহজাহান শুধু নিজের কর্মসংস্থানই নিশ্চিত করেননি; অন্যদেরও মাছচাষে উদ্বুদ্ধ করেছেন। জাতীয় মৎস্য পদক-২০২৬-এর স্বর্ণপদক অর্জনের মধ্য দিয়ে তার দীর্ঘদিনের শ্রম ও অবদানের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি মিলেছে।