বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ১২:০৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
নানিয়ারচরে রেকর্ড ৭৭টি দলের অংশগ্রহণে শুরু হলো রাধামোহন চাকমা স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট ঈদগাঁওতে অভিবাসন বিষয়ে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত ঈদগাঁওতে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীরা সংবর্ধিত খাগড়াছড়িতে ৫০ ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার দুইজন কারাগারে প্রকৃতি রক্ষায় সচেতনতার আহ্বান, খাগড়াছড়িতে ‘প্রকৃতি’র মোড়ক উন্মোচন বিলাইছড়িতে আন্তর্জাতিক যুব দিবস পালিত আলীকদমে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবিতে আবেদন লামায় ১১ মাস পর শিশু হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার সাংবাদিক-প্রশাসনের সমন্বয়ে জনসেবা আরও কার্যকর হবে: ইউএনও মিশকাতুল তামান্না মহালছড়িতে একমাত্র A+ পাওয়া টুম্পা চাকমাকে উপজেলা প্রশাসনের ফুলেল সংবর্ধনা ও সহায়তা প্রদান কাপ্তাইয়ে বিশ্ব হাতি দিবসে র‍্যালি ও আলোচনা সভা কাপ্তাই জেটিঘাটে কচুরিপানার স্তূপ, ব্যাহত নৌযান চলাচল মহালছড়িতে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন ও করণীয় নিয়ে অংশীজন সভা শান্তি-সম্প্রীতি ও নিরাপত্তার প্রত্যয়ে লক্ষীছড়ি জোনের ১০ বছর সিন্দুকছড়ি জোনের আয়োজনে মানিকছড়িতে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত রাঙ্গামাটিতে মাছ ধরতে গিয়ে জেলের মৃত্যু

বন্যপ্রাণী রক্ষায় মানবিক দৃষ্টান্ত নবদ্বীপ চাকমার

খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি।।

খাগড়াছড়িতে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে এক অনন্য মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন নবদ্বীপ চাকমা। দীর্ঘদিন পরম মমতা ও দায়িত্ববোধে লালন-পালন করা একটি বিলুপ্তপ্রায় এশিয়ান ব্ল্যাক বিয়ার, ছয়টি হরিণ ও দুইটি বানর স্বেচ্ছায় বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করেছেন তিনি।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বিকেলে খাগড়াছড়ির বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. ফরিদ মিঞার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে এসব বন্যপ্রাণী তুলে দেওয়া হয়। এ সময় ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের প্রতিনিধি নূর জাহান উপস্থিত ছিলেন। খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য ও জেলা বিএনপির নেতা অনিমেষ চাকমার উদ্যোগে পুরো হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

নবদ্বীপ চাকমা রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় বেড়ে ওঠেন। একসময় তিনি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ছিলেন এবং বর্তমানে স্থানীয় ঠিকাদারি পেশায় যুক্ত। তবে পরিচয়ের বাইরে তাঁর মানবিক চেতনা ও প্রকৃতিপ্রেমই এই উদ্যোগের মূল প্রেরণা। ছোটবেলা থেকেই তিনি হাটে-বাজারে হরিণের মাংস বিক্রি ও নির্বিচারে বন ও বন্যপ্রাণী নিধনের বিরুদ্ধে মানুষকে সচেতন করে আসছেন।

বুদ্ধের নীতিবাক্য ‘জীবহত্যা মহাপাপ’—এই দর্শনকে ধারণ করে আহত ও বিপন্ন বন্যপ্রাণী রক্ষায় এগিয়ে আসেন তিনি। নবদ্বীপ চাকমা জানান, আহত অবস্থায় বন থেকে ভালুকটিকে উদ্ধার করেছিলেন। অসুস্থ বানর দু’টিরও তিনি চিকিৎসা ও পরিচর্যা করেন। আর হরিণগুলো ছোট বয়স থেকেই নিজ দায়িত্বে লালন-পালন করে আসছিলেন।

তিনি বলেন, “অনেক দিন ধরেই প্রাণীগুলোকে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করতে চাচ্ছিলাম। উপযুক্ত মাধ্যম না থাকায় তা সম্ভব হচ্ছিল না। অনিমেষ চাকমার সহযোগিতায় অবশেষে নিরাপদ ঠিকানা নিশ্চিত করতে পেরেছি—এতে সত্যিই ভালো লাগছে।”

খাগড়াছড়ির বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. ফরিদ মিঞা বলেন, “বিলুপ্তপ্রায় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে নবদ্বীপ চাকমার মতো সচেতন মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর এই উদ্যোগ প্রশংসার দাবিদার।” তিনি আরও জানান, উদ্ধারকৃত প্রাণীগুলো দ্রুত ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে স্থানান্তর করে নিরাপদ পরিবেশে রাখা হবে।

প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ যখন নানা সংকটে, তখন নবদ্বীপ চাকমার এই নিঃস্বার্থ উদ্যোগ মানবতা, দায়িত্ববোধ ও প্রকৃতিপ্রেমের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকল।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *