
মো. ইসমাইলুল করিম, লামা প্রতিনিধি।।
কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাত মাস বয়সী শিশু মো. রাকিব ইসলাম নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় তদন্তে নতুন কিছু তথ্য সামনে এসেছে। একই হাসপাতালে প্রায় সাত মাস বয়সী আরেকটি শিশুকে পাওয়ার পর তাকে ঘিরেও তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তবে নিখোঁজ রাকিব ও হাসপাতালে পাওয়া শিশুটির মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
পরিবারের অভিযোগ, গত শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের তৃতীয় তলার শিশু ওয়ার্ডের বি-ব্লকের ১১ নম্বর শয্যা থেকে এক অজ্ঞাত নারী রাকিবকে নিয়ে চলে যান। পরিবারের দাবি, হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজে ওই নারীকে শিশুটিকে কোলে নিয়ে হাসপাতাল থেকে বের হয়ে একটি সিএনজি অটোরিকশায় উঠতে দেখা গেছে।
রাকিব বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার বাসিন্দা। অসুস্থ অবস্থায় তাকে চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা হাসপাতাল ও আশপাশের এলাকায় খোঁজাখুঁজি করেন। পরে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
রাকিবের বাবা রুবেল ইসলাম বলেন, তাঁর সন্তানকে দ্রুত উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য প্রশাসন ও পুলিশের সহযোগিতা চান তিনি।
এদিকে ঘটনার তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, হাসপাতালেই প্রায় একই বয়সী আরেকটি শিশুকে পাওয়া গেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, রাকিবকে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠা নারীই ওই শিশুটিকে হাসপাতালে রেখে যেতে পারেন। তবে এ তথ্যের কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা এখনো পাওয়া যায়নি।
পুলিশ ওই শিশুর পরিচয়, তার বাবা-মায়ের পরিচয় এবং তাকে কীভাবে হাসপাতালে আনা হয়েছে—এসব বিষয় যাচাই করছে। পাশাপাশি নিখোঁজ রাকিবের সঙ্গে শিশুটির কোনো সম্পর্ক আছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনার দিন রাত আনুমানিক ১১টার দিকে রাকিবের বাবার মোবাইল ফোনে কল করে ৭০ হাজার টাকা দাবি করা হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, ওই কলটি একটি প্রতারণা চক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। শিশুটিকে নিখোঁজ করার ঘটনার সঙ্গে ওই কলের সরাসরি কোনো সম্পর্ক আছে কি না, তা তদন্তাধীন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি পোস্টের মন্তব্যে আরিয়ান আহমেদ আরাফাত নামে এক ব্যক্তি দাবি করেন, শিশুটিকে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় ব্যবহৃত বলে ধারণা করা সিএনজি অটোরিকশার চালকের সঙ্গে তিনি যোগাযোগ করেছেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই নারী প্রথমে কোর্টবাজার যাওয়ার জন্য সিএনজি ভাড়া করেন। পরে গন্তব্য পরিবর্তন করে সোনারপাড়া যাওয়ার কথা বলেন এবং সোনার স্টেশনের কাছাকাছি এলাকায় নামেন।
আরাফাতের দাবি, ওই নারীর কাছে পর্যাপ্ত ভাড়া না থাকায় তিনি একটি বিকাশের দোকান থেকে টাকা তুলে সিএনজি ভাড়া পরিশোধ করেন। তবে এসব তথ্য এখনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাই করেনি। সংশ্লিষ্ট বিকাশ লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেলে তা তদন্তে কাজে লাগতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।
নিখোঁজ শিশুটির পরিবারের সদস্যরা বলছেন, হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ, সিএনজি চালকের তথ্য, বিকাশ লেনদেন এবং সংশ্লিষ্ট মোবাইল নম্বর যাচাই করা হলে সন্দেহভাজন নারীর পরিচয় শনাক্তে অগ্রগতি হতে পারে। একই সঙ্গে হাসপাতালে পাওয়া শিশুটির পরিচয় নিশ্চিত করাকেও তারা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একটি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, পুলিশ ঘটনাটি নিয়ে কাজ করছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এর বেশি তথ্য তিনি জানাননি।
এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। হোয়াটসঅ্যাপেও খুদেবার্তা পাঠানো হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নিখোঁজ রাকিবের সন্ধান কিংবা ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। হাসপাতাল থেকে শিশুকে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ, হাসপাতালে পাওয়া অন্য শিশুর পরিচয় এবং টাকা দাবির ফোনকল—এই বিষয়গুলোর মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
স্বজনরা দ্রুত শিশুটিকে উদ্ধারে হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ, সন্দেহভাজন নারীর গতিবিধি, সিএনজি চালকের তথ্য, বিকাশ লেনদেন ও সংশ্লিষ্ট মোবাইল নম্বরসহ প্রতিটি সম্ভাব্য সূত্র যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন।