
মো. জয়নাল আবেদীন, আলীকদম
বান্দরবান পার্বত্য জেলার দুর্গম উপজেলা আলীকদমে দীর্ঘদিন ধরে বিচারিক আদালতের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় স্থানীয় জনগণ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এ অবস্থায় আলীকদমে “সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত (আলীকদম চৌকি)” পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও দ্রুত কার্যক্রম চালুর দাবি আবারও জোরালো হয়েছে।
জানা গেছে, ১৯৮২ সালে দেশের বিভিন্ন উপজেলায় ম্যাজিস্ট্রেট আদালত স্থাপনের সরকারি সিদ্ধান্তের আওতায় আলীকদমেও একটি আদালত ভবন নির্মাণ করা হলেও সেখানে নিয়মিত বিচারিক কার্যক্রম চালু হয়নি। ফলে আলীকদম, থানচি ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার জনগণকে বিচারিক সেবা গ্রহণের জন্য প্রায় ১১১ কিলোমিটার দূরে বান্দরবান জেলা সদরে যেতে হয়। এতে সময়, অর্থ ও শ্রমের পাশাপাশি বিচারপ্রার্থী সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নারী, প্রবীণ, দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী মারাত্মক ভোগান্তির সম্মুখীন হচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আলীকদমে সেনানিবাস, থানা, বিজিবি ব্যাটালিয়নসহ বিভিন্ন নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি থাকায় বিচারিক কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ বিদ্যমান রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিদ্যমান আদালত ভবনটি সংস্কার করে দ্রুত বিচারিক কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব এবং পরবর্তীতে প্রয়োজন অনুযায়ী আধুনিক আদালত ভবন নির্মাণ করা যেতে পারে।
এবিষয়ে মোঃ মহিউদ্দিন (বন্ধু) আহ্বায়ক, গ্রীন পলিসি মুভমেন্ট কর্তৃক দাখিলকৃত আবেদন সমূহের পরিপ্রেক্ষিতে জনস্বার্থ ও এলাকার প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার, আলীকদম উপজেলা নির্বাহী অফিসার’সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তর ইতোমধ্যে একাধিক সুপারিশ ও মতামত প্রদান করেছে। সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিচার শাখা-৪ এ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানা গেছে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, আলীকদমে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হলে শুধু আলীকদম নয়, পার্শ্ববর্তী থানচি ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার জনগণও দ্রুত ও সহজে ন্যায়বিচার পাবেন। একই সঙ্গে পার্বত্য অঞ্চলে আইনের শাসন, বিচারপ্রাপ্তির সুযোগ, প্রশাসনিক জবাবদিহিতা এবং জনসেবার মান উল্লেখযোগ্য ভাবে বৃদ্ধি পাবে।
এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত কার্যক্রম সম্পন্ন করে আলীকদমে “সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত (আলীকদম চৌকি) পুনরায় চালুর দাবি জানিয়েছেন।