সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:৫৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কাপ্তাই প্রেসক্লাবের নতুন কমিটি গঠন, সভাপতি কবির হোসেন ও সম্পাদক ঝুলন দত্ত মাটিরাঙ্গায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ২২ হাজার গাছের চারা বিতরণ মাটিরাঙ্গায় মাদকবিরোধী র‍্যালি ও পথসভা মাটিরাঙ্গায় সেনাবাহিনীর উদ্যোগে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা ও খেলনা সামগ্রী বিতরণ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৪০০ শিশুকে সহায়ক উপকরণ দেবে ইউনিসেফ রাঙ্গামাটিতে ১৮ এপিবিএনের উদ্যোগে হারানো ৫০ মোবাইল ও ২০ হাজার ৪০০ টাকা উদ্ধার আসন্ন সেপ্টেম্বরের সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবেলায় খাগড়াছড়িতে রিজিয়নাল ইন্টেলিজেন্স কমিটির সমন্বয় সভা রাজস্থলীতে নানা আয়োজনে জাতীয় মৎস্য পক্ষ উদযাপন দীঘিনালার শাহজাহান পেলেন জাতীয় মৎস্য পদক-২০২৬-এর স্বর্ণপদক কাপ্তাই লেকের অবৈধ স্থাপনা: মালিকদের নাম-ঠিকানাসহ তালিকা চেয়েছেন হাইকোর্ট বাঘাইছড়িতে ২০ গ্রাম গাঁজাসহ স্বর্ণ ব্যবসায়ী আটক ইয়াবা ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের সামাজিকভাবে প্রতিহত করার আহ্বান এমপি কাজলের রামুতে জাতীয় মৎস্য পক্ষের উদ্বোধন করলেন এমপি কাজল বিলাইছড়িতে ৭ গ্রাম গাঁজাসহ ব্যক্তি আটক মানিকছড়িতে জাতীয় মৎস্য পক্ষ উদযাপন উপলক্ষে পোনামাছ অবমুক্তকরণ  বিলাইছড়িতে উদীয়মান খেলোয়াড়দের মাঝে সেনাবাহিনীর ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ

কক্সবাজার থেকে সাইকেলে নেপাল যাচ্ছেন কাপ্তাইয়ের বীর কুমার তনচংগ্যা

Reporter Name

এম বাবুল, কাপ্তাই প্রতিনিধি।।
কক্সবাজারের সমুদ্রসৈকত থেকে সাইকেলে নেপালের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছেন রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার ওয়াগ্গা ইউনিয়নের তরুণ অভিযাত্রী, সাইক্লিস্ট ও সমাজসেবক বীর কুমার তনচংগ্যা। রবিবার (১৬ আগস্ট) সকাল ৮টা ৩৯ মিনিটে কক্সবাজারের কবিতা চত্বর সৈকত থেকে প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহের মধ্য দিয়ে তাঁর বহুল প্রতীক্ষিত ‘সি টু হিমালয়াস’ (ঝবধ ঃড় ঐরসধষধুধং) অভিযানের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।

এই অভিযানের মাধ্যমে কক্সবাজারের সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে সাইকেলে স্থলপথ পাড়ি দিয়ে নেপালে পৌঁছে চারটি দুর্গম ও চ্যালেঞ্জিং ট্রেইল—মানাসলু সার্কিট, অন্নপূর্ণা সার্কিট, অন্নপূর্ণা বেস ক্যাম্প (এবিসি) এবং এভারেস্ট বেস ক্যাম্প (ইবিসি)—অতিক্রম করার লক্ষ্য নিয়েছেন তিনি। অভিযানের বিভিন্ন পর্যায়ে বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা বহন করবেন এই অভিযাত্রী।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, কক্সবাজার থেকে যাত্রা করে প্রথমে ঢাকায় পৌঁছাবেন বীর কুমার। এরপর পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা ইমিগ্রেশন দিয়ে ভারতে প্রবেশ করে পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি হয়ে নেপাল সীমান্তে পৌঁছানোর কথা রয়েছে তাঁর।

বীর কুমার তনচংগ্যা বলেন, সাধারণত বাংলাদেশি অভিযাত্রীরা বিমানে নেপালে গিয়ে সেখান থেকে সাইকেল বা পর্বতাভিযান শুরু করেন। তবে তিনি ব্যতিক্রমীভাবে বাংলাদেশের সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার থেকে সাইকেলে স্থলপথে নেপালে পৌঁছে পুরো অভিযান সম্পন্ন করতে চান।

তাঁর ভাষ্য, এই অভিযানের উদ্দেশ্য শুধু ব্যক্তিগত স্বপ্ন পূরণ নয়; আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরা এবং দেশের অ্যাডভেঞ্চার পর্যটনের সম্ভাবনাকে বিশ্ববাসীর সামনে পরিচিত করাও এর অন্যতম লক্ষ্য।

দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির পর শুরু হয়েছে তাঁর এই অভিযান। প্রয়োজনীয় অনুমতি, ভিসা ও প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে তাঁকে কাপ্তাই, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও ঢাকায় একাধিকবার যেতে হয়েছে। নানা প্রতিবন্ধকতা ও আর্থিক সংকটের মধ্যেও নিজের স্বপ্ন বাস্তবায়নে প্রস্তুতি চালিয়ে গেছেন তিনি।

অভিযানের প্রস্তুতিতে দেশের পরিচিত সাইক্লিস্ট রাকিবুল ইসলাম এবং পর্বতারোহী বাবর আলীর সহযোগিতার কথাও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন বীর কুমার।

তিনি জানান, তাঁর জন্য অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো ৯০ দিনের সার্ক স্টিকার ভিসার সময়সীমার মধ্যে পুরো অভিযান সম্পন্ন করা এবং প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তা নিশ্চিত করা। এ জন্য করপোরেট প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন সংগঠন, শুভানুধ্যায়ী ও দেশবাসীর সহযোগিতা এবং পৃষ্ঠপোষকতা কামনা করেছেন তিনি।

কক্সবাজার থেকে তাঁর যাত্রা শুরুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর কাপ্তাই ও রাঙামাটির বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাঁকে শুভকামনা জানিয়েছেন। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নিরাপদে দীর্ঘ ও কঠিন এই অভিযান সম্পন্ন করে তিনি দেশের জন্য নতুন গৌরব বয়ে আনবেন এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা তুলে ধরবেন।

প্রসঙ্গত, বীর কুমার তনচংগ্যা এর আগে সাইকেলে ভারতের ১০টি রাজ্য ভ্রমণ করেছেন। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে যাত্রা শুরু করে প্রায় ৭১ দিনে ৫ হাজার ৭০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে ২০২৪ সালের মার্চে দেশে ফেরেন তিনি। এছাড়া বাংলাদেশের দীর্ঘতম ক্রস-কান্ট্রি রুট টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া এবং দেশের ৬৪টি জেলা সাইকেলে পরিভ্রমণের অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *