
হাবীবুল্লাহ মিসবাহ, রাজস্থলী প্রতিনিধি।।
রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলার বাঙ্গালহালিয়া ঋষি আশ্রমে এক নওমুসলিম তরুণীকে আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগে জড়িতদের শাস্তি এবং আশ্রমটির কার্যক্রম বন্ধের দাবিতে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে স্মারকলিপি দিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ।
সোমবার (২২ জুন) সংগঠনটির পক্ষ থেকে রাঙামাটি জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, কাপ্তাই জোন কমান্ডার, রাজস্থলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), বাঙ্গালহালিয়া আর্মি ক্যাম্প এবং চন্দ্রঘোনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কাছে পৃথকভাবে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
স্মারকলিপিতে বাঙ্গালহালিয়া ঋষি আশ্রমের কার্যক্রম তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।
হেফাজতে ইসলামের দাবি, চট্টগ্রাম সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী তন্নী দে ঋপন্না স্বেচ্ছায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে আয়েশা ছিদ্দিকা জারা নাম ধারণ করেন। পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যরা তাকে পুনরায় পূর্ব ধর্মে ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় তাকে রাজস্থলীর বাঙ্গালহালিয়া ঋষি আশ্রমে নিয়ে গিয়ে আটকে রাখা এবং শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ জুন স্থানীয় কিছু ব্যক্তি আশ্রমে ওই তরুণীকে আটকে রাখার খবর পেয়ে সেখানে যান। পরে তাকে আশ্রমের একটি নির্মাণাধীন টয়লেট এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হলে চন্দ্রঘোনা থানা পুলিশ তরুণী এবং তার বাবা-মাকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। পরে তাদের কক্সবাজারের ঈদগাঁও থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এদিকে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের কিছু সদস্য ও হেফাজতে ইসলামের নেতারা অভিযোগ করেন, এর আগেও আশ্রম ও সংশ্লিষ্ট কিছু ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে নওমুসলিমদের নিয়ে যাওয়ার এবং তাদের ওপর মানসিক চাপ প্রয়োগের ঘটনা ঘটেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আশ্রম কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
হেফাজতে ইসলাম নেতারা বলেন, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও মানবাধিকার নিশ্চিত করতে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। একই সঙ্গে তারা দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। অন্যথায় আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে বলেও তারা সতর্ক করেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক তদন্তের ফলাফল এখনো প্রকাশ করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।