সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:৫৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
চুয়েটে গো-কার্ট ও মার্স রোভার প্রদর্শনী পরিদর্শন করলেন বিসিবি পরিচালক ইসরাফিল খসরু আসন্ন সেপ্টেম্বরের সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় পানছড়ি ৩ বিজিবিতে সমন্বয় সভা মাদক নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি জনসম্পৃক্ততা জরুরি: অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাঙ্গামাটির পাহাড়ে আমড়ার সুবাস, অর্থনীতি ও ঐতিহ্যের ফল খাগড়াছড়িতে ২০০ পিস ইয়াবাসহ তিনজন আটক নাগরিকদের দুর্নীতিমুক্ত ও উন্নত সেবা দিতে সরকার শতভাগ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: চট্টগ্রামে মীর হেলাল মহালছড়িতে বজ্রপাতে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু মহালছড়িতে যৌথবাহিনীর অভিযানে পিস্তল-গুলিসহ ব্যক্তি গ্রেপ্তার লামায় ২০ পিস ইয়াবাসহ কিশোর আটক লামায় অভিযানে ৭ লাখ ৭০ হাজার ঘনফুট অবৈধ বালু জব্দ লামার প্রতিনিধি না রাখায় বান্দরবান জেলা পরিষদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ কাউখালিতে গাঁজাসহ যুবক আটক: ভবিষ্যতে না জড়ানোর শপথে মুক্তি দিল ‘ঘাগড়া মুসলিম যুব সমাজ কোতয়ালী থানার অভিযানে ৫০০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার ২ ভীমরুলের কামড়ে লামায় বৃদ্ধার মৃত্যু রাজপুত্র থেকে মন্ত্রী, বান্দরবানে উৎসবের আমেজ খাপাজেপ চেয়ারম্যান ম্রাসাথোয়াই মারমা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে বিহারে বিশেষ প্রার্থনা

বন্যপ্রাণী রক্ষায় মানবিক দৃষ্টান্ত নবদ্বীপ চাকমার

খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি।।

খাগড়াছড়িতে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে এক অনন্য মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন নবদ্বীপ চাকমা। দীর্ঘদিন পরম মমতা ও দায়িত্ববোধে লালন-পালন করা একটি বিলুপ্তপ্রায় এশিয়ান ব্ল্যাক বিয়ার, ছয়টি হরিণ ও দুইটি বানর স্বেচ্ছায় বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করেছেন তিনি।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বিকেলে খাগড়াছড়ির বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. ফরিদ মিঞার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে এসব বন্যপ্রাণী তুলে দেওয়া হয়। এ সময় ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের প্রতিনিধি নূর জাহান উপস্থিত ছিলেন। খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য ও জেলা বিএনপির নেতা অনিমেষ চাকমার উদ্যোগে পুরো হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

নবদ্বীপ চাকমা রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় বেড়ে ওঠেন। একসময় তিনি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ছিলেন এবং বর্তমানে স্থানীয় ঠিকাদারি পেশায় যুক্ত। তবে পরিচয়ের বাইরে তাঁর মানবিক চেতনা ও প্রকৃতিপ্রেমই এই উদ্যোগের মূল প্রেরণা। ছোটবেলা থেকেই তিনি হাটে-বাজারে হরিণের মাংস বিক্রি ও নির্বিচারে বন ও বন্যপ্রাণী নিধনের বিরুদ্ধে মানুষকে সচেতন করে আসছেন।

বুদ্ধের নীতিবাক্য ‘জীবহত্যা মহাপাপ’—এই দর্শনকে ধারণ করে আহত ও বিপন্ন বন্যপ্রাণী রক্ষায় এগিয়ে আসেন তিনি। নবদ্বীপ চাকমা জানান, আহত অবস্থায় বন থেকে ভালুকটিকে উদ্ধার করেছিলেন। অসুস্থ বানর দু’টিরও তিনি চিকিৎসা ও পরিচর্যা করেন। আর হরিণগুলো ছোট বয়স থেকেই নিজ দায়িত্বে লালন-পালন করে আসছিলেন।

তিনি বলেন, “অনেক দিন ধরেই প্রাণীগুলোকে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করতে চাচ্ছিলাম। উপযুক্ত মাধ্যম না থাকায় তা সম্ভব হচ্ছিল না। অনিমেষ চাকমার সহযোগিতায় অবশেষে নিরাপদ ঠিকানা নিশ্চিত করতে পেরেছি—এতে সত্যিই ভালো লাগছে।”

খাগড়াছড়ির বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. ফরিদ মিঞা বলেন, “বিলুপ্তপ্রায় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে নবদ্বীপ চাকমার মতো সচেতন মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর এই উদ্যোগ প্রশংসার দাবিদার।” তিনি আরও জানান, উদ্ধারকৃত প্রাণীগুলো দ্রুত ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে স্থানান্তর করে নিরাপদ পরিবেশে রাখা হবে।

প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ যখন নানা সংকটে, তখন নবদ্বীপ চাকমার এই নিঃস্বার্থ উদ্যোগ মানবতা, দায়িত্ববোধ ও প্রকৃতিপ্রেমের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকল।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *