শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ০২:৫৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
দীঘিনালায় বন্যা-পরবর্তী ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, ১,২০০ পরিবারে ত্রাণ বিতরণ রাবিপ্রবি’তে ‘জুলাই শহীদ দিবস-২০২৬’ পালন হুম্মাম কাদের চৌধুরীর নির্দেশনায় রাঙ্গুনিয়ায় বন্যাদুর্গতদের পাশে বিএনপি ও ছাত্রদল নেতা সাবের; দুই দিনব্যাপী ত্রাণ বিতরণ ঈদগাঁওতে বিনম্র শ্রদ্ধায় জুলাই শহীদদের স্মরণ রাঙামাটিতে ৪৫ বিজিবির উদ্যোগে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ বরকলে বন্যার্তদের বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ দিল ১২ বিজিবি রাবিপ্রবিতে ‘জুলাই শহীদ দিবস’ পালিত, শহীদদের স্মরণে শ্রদ্ধা নিবেদন খাগড়াছড়িতে ডিবির অভিযানে ইয়াবাসহ তিনজন আটক রাজস্থলীতে বন্যা ও পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্ত ৩ শতাধিক পরিবারে জেলা পরিষদের ত্রাণ সহায়তা বিলাইছড়িতে জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা বাঘাইছড়িতে বন্যাদুর্গত ২,৩১০ পরিবারের মাঝে পুষ্টিকর বিস্কুট বিতরণ বিলাইছড়িতে বন্যাকবলিত ৩০০ পরিবারের মাঝে বিএনপির ত্রাণ বিতরণ মাটিরাঙ্গা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় জুলাই শহিদ দিবস পালিত খাগড়াছড়িতে জুলাই শহীদ দিবস পালন, বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় সভা বান্দরবানে বন্যার্তদের খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তা দিল সেনাবাহিনী বরকলে জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

রাবিপ্রবি’তে ‘জুলাই শহীদ দিবস-২০২৬’ পালন

Reporter Name

দেবদত্ত মুৎসুদ্দী, রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি

রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আজ ১৬ জুলাই ২০২৬খ্রি. তারিখ ‘জুলাই শহীদ দিবস’ পালন করা হয়েছে। জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে সকাল ০৯:৩০ ঘটিকায় রাবিপ্রবি’র ‘বিজয় স্মৃতিস্তম্ভে’ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অংশগ্রহণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকী। ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই তারিখে কোটা সংস্কার ও ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে রংপুর জেলায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী শহীদ আবু সাঈদ ও পরবর্তীতে মীর মুগ্ধ, ওয়াসিম আকরাম, হৃদয় তারুয়া, ফরহাদ হোসেনসহ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং তাঁদের রুহের মাগফিরাত ও আহত-পঙ্গুত্ববরণকারীদের সুস্থতা কামনা করে দোয়া করা হয়।

অতঃপর দিবসটি উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন-১ এর কনফারেন্স কক্ষে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকী এবং সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) ও ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জনাব মোহাম্মদ জুনাইদ কবির।

প্রধান অতিথির বক্তব্যের শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর জুলাই শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং যারা পঙ্গুত্ববরণ করেছেন ও আহত হয়েছেন তাদের ও তাদের পরিবার-পরিজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের যে মর্মার্থ ও স্পিরিট যদি আমরা ধারণ করতে না পারি, এই আন্দোলন কখনো সফলতার মুখ দেখবে না। আমরা নিজেরাও আমাদের সন্তানদের পাশে এই আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছি এবং স্বচক্ষে দেখেছি এটার নির্মমতা কতটুকু ভয়াবহ। এ উপমহাদেশে বাঙালি জাতির যে ইতিহাস, যুগে যুগে বৈষম্যের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে, একত্রিত হয়েছে। তিনি আরো বলেন, জুলাই-২৪ এ আপামর পেশাজীবী, শ্রমজীবী, ছাত্রসমাজের যে আত্মত্যাগ ও অবদান; এবং এ জুলাই-এর স্পিরিটকে ধারণ করে বৈষম্যহীন সমাজ নির্মাণে অবদান রাখার দায়িত্ব আমাদের সকলের। এছাড়াও তিনি তাঁর বক্তব্যে জুলাই শহীদ যোদ্ধা মোঃ ফরহাদ হোসেন স্মরণে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হলের নামকরণ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, শহীদ মীর মুগ্ধের মতো তরতাজা যুবক, শিশুসহ হাজার হাজার শহীদ হয়েছেন, সে শহীদদের আমরা ফিরে পাবো না তবে তাদের চেতনা ধারণ করতে হবে। জুলাই-২৪ এ বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার যে নিরলস সংগ্রাম, সে সংগ্রাম করতে গিয়ে অনেক পরিবারের সন্তানরা আজ পঙ্গুত্ববরণ করেছেন, সেইসব পরিবার আজ সমাজের চারদিকে দুঃসহ বেদনায় দিন পার করছেন। তাদের প্রতি যথাযথ দায়িত্ব পালন করবে রাষ্ট্র এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তাই উপস্থিত শিক্ষার্থী-শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরকে জুলাই আন্দোলনের চেতনাকে ধারণ করার আহবান জানান।

উক্ত সভায় আরও বক্তব্য রাখেন ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন ড. মুহাম্মদ রহিম উদ্দিন, ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান জনাব মোসা. হাবিবা এবং শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মোঃ ইমরান হোসেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা ও উক্ত দিনগুলির স্মৃতিচারণ করেন মোঃ ইমরান হোসেন। আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগ দেশের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে এবং তাদের আত্মদান বৈষম্যহীন সমাজ, ন্যায়বিচার, ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়তে নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে। জুলাই আন্দোলনের অনিবার্যতার প্রেক্ষাপট আন্তর্জাতিকতার আলোকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করার প্রয়াসী হোন ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন ড. মুহাম্মদ রহিম উদ্দিন। এছাড়া দোয়া অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সায়েন্স, ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি অনুষদের ডিন ড. তৌহিদুল আলম।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) ও ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জনাব মোহাম্মদ জুনাইদ কবির সভাপতি হিসেবে সমাপনী বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি জুলাইয়ের অনিবার্যতার প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন এবং এ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে বাংলাদেশ পেয়েছি সেই দেশকে দুর্নীতিমুক্ত, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে সততা, নিষ্ঠা, দক্ষতা ও স্বচ্ছতার সাথে সকল অংশীজন ও শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহবান জানান। এছাড়া বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে বিশ্ববিদ্যালয় প্রদত্ত ত্রাণ বিতরণের জন্য যেসকল শিক্ষার্থীরা স্বেচ্ছায় বিলাইছড়ি ও বাঘাইছড়িতে গমন করেছেন তাদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন। পরিশেষে অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এবং অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

আলোচনা সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও ফিশারিজ এন্ড মেরিন রিসোর্সেস টেকনোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মোঃ ফখরুদ্দিনসহ বিভাগীয় সকল চেয়ারম্যান, শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী-শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *