রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ০৬:৫০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ঈদগাঁও উপজেলায় চলছে স্মার্ট কৃষি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় নৌ পথে আগামী ৩০শে জুলাই পর্যন্ত চলাচল বন্ধ বান্দরবানে বন্যাকবলিত ঋণগ্রহীতাদের কিস্তি আদায়ে তিন মাস স্থগিতের নির্দেশ ফলোআপ প্রতিবেদন; থানচিতে নিখোঁজ পর্যটক বিষয়ে যা জানা যাচ্ছে মানিকছড়িতে কৃষকদলের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন পানছড়িতে মাদকবিরোধী অবস্থান ঘোষণা পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ ও যুব সমিতির উল্টোরথ উপলক্ষে খাগড়াছড়ির ছোটগাছবান পাড়ায় ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ভক্তদের মিলনমেলা ঈদগাঁওয়ে পৃথক অভিযানে তিন পরোয়ানাভুক্ত আসামি গ্রেফতার বান্দরবানে বন্যাকবলিত ১৫০ পরিবারের পাশে এমপি সাচিংপ্রু জেরি মাটিরাঙ্গা-গোমতি সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সংস্কার করলেন বিএনপি নেতা জিয়াউর রহমান বিদ্যুৎ সংযোগের অপেক্ষায় গুইমারা উপজেলা প্রশাসনিক ভবন, ব্যাহত সেবা কার্যক্রম সেলিম বাবু হত্যা মামলায় তিন আসামির জামিন নামঞ্জুর, কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ অতিরিক্ত ইট বোঝাই ট্রাকের চাপে সাহেবনগর বেইলি ব্রিজ ধসে, রাঙ্গুনিয়ায় সড়ক যোগাযোগ বন্ধ ফারুয়া ইউনিয়নে ১৫০ জনকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দিল আশিকা নাইক্ষ্যংছড়িতে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ৬০ পরিবারকে ১১ বিজিবির ত্রাণ সহায়তা রাজস্থলীর দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে ইউএনওর ত্রাণ বিতরণ

লামায় সূর্যমুখীর সমারোহ, তামাকের বিকল্পে আশার আলো দেখছেন কৃষকরা

মো. ইসমাইলুল করিম, লামা প্রতিনিধি

পার্বত্য জেলা বান্দরবানের লামা উপজেলায় বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন সূর্যমুখী ফুলের সমারোহ। দিগন্তজোড়া সবুজের মাঝে হলুদ রঙের এ ফুলের মেলা যেন প্রকৃতিতে এনেছে ভিন্ন এক সৌন্দর্য। সোমবার (৩১ মার্চ) বিকেলে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এমন মনোরম দৃশ্য দেখা যায়।

সূর্যমুখী শুধু দৃষ্টিনন্দন ফুলই নয়, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ তেলজাতীয় ফসল। এর বীজ থেকে উৎপাদিত তেল পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এবং বিভিন্ন খাদ্যে ব্যবহারযোগ্য। বিশ্বব্যাপী সূর্যমুখী তেলের চাহিদা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে লামায় কৃষকদের আগ্রহও বাড়ছে এ ফসলের প্রতি।

উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে লামায় প্রায় ৫.৫ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখীর আবাদ হয়েছে। তামাক চাষ থেকে সরে এসে অনেক কৃষক এবার বিকল্প হিসেবে সূর্যমুখী চাষে ঝুঁকেছেন। এ লক্ষ্যে কৃষকদের প্রণোদনা হিসেবে বীজ ও সার সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা অভিজিৎ বড়ুয়া জানান, ৪০ জন কৃষককে ১ বিঘা করে জমিতে চাষের জন্য বীজ ও সার দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ফসল সংগ্রহের উপযোগী হয়েছে এবং ফলন আশাব্যঞ্জক।

কৃষি বিভাগ আরও জানায়, ভাদ্র-আশ্বিন মাস সূর্যমুখী চাষের জন্য উপযুক্ত সময়। সঠিকভাবে জমি প্রস্তুত, নির্দিষ্ট দূরত্বে বীজ বপন এবং সময়মতো সার প্রয়োগ করলে ভালো ফলন পাওয়া যায়। সাধারণত বপনের ৯০ থেকে ১০৫ দিনের মধ্যেই ফসল সংগ্রহ করা সম্ভব। বিঘাপ্রতি ৭ থেকে ১০ মণ ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।

লামা পৌরসভার ছাগলখাইয়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সড়কের পাশজুড়ে বিস্তৃত সূর্যমুখীর বাগান। স্থানীয় কৃষক মংক্যচিং মার্মা জানান, প্রথমবার ৪০ শতক জমিতে সূর্যমুখী চাষ করে প্রায় ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। তিনি আশা করছেন, ১৫ থেকে ২০ মণ ফলন পেয়ে সব খরচ বাদ দিয়ে লক্ষাধিক টাকা লাভ করতে পারবেন।

একইভাবে গজালিয়া ইউনিয়নের কৃষক সজারাম ত্রিপুরাও কৃষি বিভাগের পরামর্শে সূর্যমুখী চাষ করে সন্তোষজনক ফলন পেয়েছেন বলে জানান। ফাইতং ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকাতেও এ ফসলের ভালো ফলনের খবর পাওয়া গেছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সোহেল রানা বলেন, সূর্যমুখীর তেল স্বাস্থ্যসম্মত ও পুষ্টিগুণে ভরপুর। কৃষকদের মধ্যে এ ফসল জনপ্রিয় করতে সরকারিভাবে প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। চলতি মৌসুমে ভালো ফলন হওয়ায় আগামীতে আরও কৃষক এ চাষে আগ্রহী হবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *