
মো. গোলামুর রহমান, লংগদু প্রতিনিধি।।
রাঙামাটির লংগদু উপজেলায় আওয়ামী লীগ নেতা ফয়জুল আজীমের সেগুন বাগান থেকে গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে উপজেলা বিএনপির সদস্য রাজ্জাককে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে উপজেলা বিএনপি।
গত ১৭ জুলাই লংগদু উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. তোফাজ্জল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদের যৌথ স্বাক্ষরে এ নোটিশ জারি করা হয়।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে উপজেলা বিএনপির সদস্য রাজ্জাক দাবি করেন, গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগ নেতা ফয়জুল আজীম ফয়েজের একটি সেগুন বাগান থেকে প্রায় ২৪ লাখ টাকা মূল্যের গাছ কেটে বিক্রি করেছে উপজেলা বিএনপি।
অভিযোগের বিষয়ে আওয়ামী লীগ নেতা ফয়জুল আজীম বলেন, তিনি এলাকার বাইরে থাকার সুযোগে উপজেলা বিএনপির সভাপতি তোফাজ্জল হোসেনের নেতৃত্বে তার সেগুন বাগানের গাছ কেটে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তার জমিতে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা ঘর নির্মাণ করেছে বলেও তিনি দাবি করেন। তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করলেও এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিকার পাননি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে লংগদু উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. তোফাজ্জল হোসেন বলেন, **”এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন অভিযোগ। দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।”**
শোকজ নোটিশে রাজ্জাককে তিন কার্যদিবসের মধ্যে তার বক্তব্যের পক্ষে উপযুক্ত তথ্য-প্রমাণসহ লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে। অন্যথায় দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে কেন তাকে স্থায়ীভাবে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে না, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা রাজ্জাকের ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
উল্লেখ্য, সেগুন বাগান থেকে গাছ কাটার অভিযোগ এবং এ-সংক্রান্ত পাল্টাপাল্টি দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য পাওয়া গেলেও অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।