
হাবীবুল্লাহ মিসবাহ, রাজস্থলী প্রতিনিধি।।
রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলার বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়নের আবাসিক মুন্সিপাড়ায় প্রায় ২০০ মিটার দীর্ঘ একটি কাঁচা সড়ক দুই দশকেও পাকা হয়নি। বর্ষা মৌসুমে কাদামাটির কারণে স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী ও রোগীদের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজস্থলী-বাঙ্গালহালিয়া প্রধান সড়ক থেকে আবাসিক মুন্সিপাড়া খাল পর্যন্ত এই সড়কটিই এলাকার বাসিন্দাদের একমাত্র যাতায়াতের পথ। প্রায় ২০ বছর আগে গড়ে ওঠা আবাসিক মুন্সিপাড়ায় বর্তমানে প্রায় ৩০টি পরিবারের বসবাস। সড়কটির শেষ প্রান্তে থাকা একটি খাল পার্শ্ববর্তী আবাসিক হিন্দুপাড়ার প্রায় ৪০ থেকে ৫০টি পরিবারের বাসিন্দারাও বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও পূজা-পার্বনের সময় ব্যবহার করেন। ফলে প্রায় ৮০টি পরিবারের চলাচলের জন্য সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এলাকাবাসীর দাবি, সড়কটি দ্রুত পাকা করার পাশাপাশি খালের পাশে একটি ড্রেন এবং শেষ প্রান্তে একটি কালভার্ট বা ছোট সেতু নির্মাণ করা হলে দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান হবে।
আবাসিক মুন্সিপাড়ার বাসিন্দা আব্দুল হামিদ বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে একই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো রাস্তা কাদায় ভরে যায়। তখন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়। বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় ও কলেজে যেতে এবং অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নিতে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়।”
আবাসিক হিন্দুপাড়ার মা মগদ্ধেশ্বরী মাতৃমন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি প্রিয়লাল দত্ত বলেন, “আমাদের এলাকায় খাল বা পুকুর না থাকায় বিভিন্ন পূজা-পার্বনের সময় মুন্সিপাড়ার খালে যেতে এই সড়ক ব্যবহার করতে হয়। বর্ষাকালে রাস্তা কাদাযুক্ত হয়ে পড়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়।”
স্থানীয় ইউপি সদস্য কাইয়ুম হোসেন মিরাজ বলেন, দীর্ঘদিনেও সড়কটি উন্নয়ন না হওয়ায় এলাকাবাসী নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। তিনি সড়কটি ইট সলিং বা পাকাকরণের পাশাপাশি ড্রেন ও একটি ছোট সেতু নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
এ বিষয়ে বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আদোমং মারমা বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের সীমিত বরাদ্দ দিয়ে এ ধরনের উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। জেলা পরিষদ বা পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে প্রকল্প গ্রহণ করা হলে সড়কটির উন্নয়ন করা সম্ভব হবে। তিনি জনস্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দেওয়ার আহ্বান জানান।